• শনিবার , ২৩ মে, ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া উপসচিব পরিচয়ে কোটি টাকার প্রতারণা, ১১ মামলার ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর

ভুয়া উপসচিব পরিচয়ে কোটি টাকার প্রতারণা, ১১ মামলার ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৫০ ২৩ মে ২০২৬

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত চেইনম্যান মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন বলে অভিযোগ তদন্ত সংশ্লিষ্টদের।

জানা গেছে, বিভিন্ন ঘটনায় দায়ের হওয়া ১১টি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালত ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তবে ওয়ারেন্ট থাকলেও তিনি এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগে প্রতারণার সত্যতা পেয়েছে। এমনকি ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করেও তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বাচলে প্লট দেওয়ার নাম করে ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে তিনি প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো জালিয়াতির মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেন, যেগুলো পরে তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে ভয়ভীতি ও মামলার মাধ্যমে তাদের হয়রানি করেছেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, মুজিবুর রহমান বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছেন—কখনো রাজউকের কর্মকর্তা, কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন।

এদিকে, তার প্রতারণার শিকার একাধিক ভুক্তভোগী এখন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তবে অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তিনি কোনো ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সব সম্পদ ব্যাংক ঋণে নেওয়া এবং মামলাগুলো তদন্তাধীন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/