• সোমবার , ১৬ মার্চ, ২০২৬ | ২ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাভারে হোটেল ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সাভারে হোটেল ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আনিসুর রহমান: সাভার প্রতিনিধি
আনিসুর রহমান: সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:১১ ১১ মার্চ ২০২৬

ঢাকার উপকণ্ঠ Savar–এর দক্ষিণ নামাগেন্ডা এলাকায় পূর্ব বিরোধ ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে আইয়ুব খান নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় অপরপক্ষের শাহাদাৎ হোসেনও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই Savar Model Police Station–এ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ নামাগেন্ডা এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব খান দীর্ঘদিন ধরে ‘ভাই ভাই খাবার হোটেল’ নামে একটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে তিনি তার হোটেলের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বের বিরোধের জেরে একই এলাকার শাহাদাৎ হোসেন, সাকিব, মকবেলসহ আরও ১০–১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত করে। একপর্যায়ে তার পরিহিত শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং শার্টের বুক পকেটে থাকা প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আইয়ুব খানকে Savar Upazila Health Complex–এ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে শাহাদাৎ ও তার ভাই সাকিব এলাকায় চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন নেতার নাম ব্যবহার করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকদিন আগে চাঁদা দাবির ঘটনায় সাকিব ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হয়ে কারাগারেও গিয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি মো. আমিন খান নতুন একটি গ্যারেজ চালুর উদ্যোগ নিলে শাহাদাৎ ও তার সহযোগীরা উদ্বোধনের আগেই দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে তারা আমিন খানের বাবার হোটেলে গিয়ে তার বৃদ্ধ বাবাকে মারধর করে টাকা দাবি করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে ঘটনার বিষয়ে সাকিব খান বাদী হয়ে থানায় পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেশী গার্মেন্টস কর্মী রিয়া মনিকে উদ্দেশ করে অশ্লীল মন্তব্য করার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় শাহাদাৎ হোসেনকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। তাকেও Savar Upazila Health Complex–এ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে শাহাদাৎ ও তার কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও শাহাদাৎকে এলাকাবাসী আটক করেন। পরে তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, পরে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে Savar Model Police Station–এর পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/