• বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ | ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে ভিসির সম্পৃক্ততার অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে ভিসির সম্পৃক্ততার অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৫৭ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়টির তৎকালীন উপাচার্য (ভিসি) মো. হাসিবুর রশীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রুহুল আমিনের জবানবন্দিতে এমন তথ্য প্রকাশ পায়, যা মামলাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

সোমবার আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসিসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, আন্দোলনের সময় নিরীহ ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদ।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকলেও ভিসি হাসিবুর রশীদ আন্দোলন চলাকালে আসামিদের বেআইনি কার্যক্রম বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। বরং তার নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যা শেষ পর্যন্ত আবু সাঈদের প্রাণহানির পথ তৈরি করে।

জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলন দমন ও ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বর্তমানে ছয়জন আসামি গ্রেফতার রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলাম। তার ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রুহুল আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম অন্য আসামিদের বেআইনি কার্যক্রম প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ নেননি। বরং আবু সাঈদকে হত্যা এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীকে গুরুতর জখম করার ঘটনায় তিনি উসকানি দেন ও সহযোগিতা করেন।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আবু সাঈদকে হত্যা ও অন্যদের গুরুতর জখম করার ঘটনায় উসকানি ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ১১ জুলাই পোমেল বড়ুয়া নিজেই আবু সাঈদকে থাপ্পড় মারেন।

সবশেষে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করেন। মামলার এই সব তথ্য আদালতে উপস্থাপনের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/