• বৃহস্পতিবার , ০৭ মে, ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে জমি রেজিস্ট্রি না দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

কেশবপুরে জমি রেজিস্ট্রি না দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

জাকির হোসেন: কেশবপুর প্রতিনিধি
জাকির হোসেন: কেশবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২:০৪ ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

কেশবপুরে বায়নাপত্র সম্পাদনের পরও জমি রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়নে উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের কোহিনুর বেগম নামের এক নারী এই সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ উত্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোহিনুর বেগম জানান, উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের বাসিন্দা ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর কাছ থেকে তিনি ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মধ্যকুল মৌজার ৭৫ নম্বর খতিয়ানের ৩৬৪৫ নম্বর দাগে অবস্থিত ৭ দশমিক ৫০ শতক জমি ক্রয়ের জন্য বায়নাপত্র করেন। জমিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনটি ১০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র সম্পাদন করা হয় এবং এ সময় ডাবলু তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে দুইজন আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দিলে তিনি সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন, যার হোল্ডিং নম্বর ০৯৬।

তিনি আরও বলেন, জমির কাগজপত্রে কিছু ত্রুটি থাকায় নির্ধারিত সময়ে জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০২০ সালের ১২ জুলাই ও ২০২১ সালের ২৪ জুলাই বায়নাপত্রের ওপর আরও ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি ওই বায়নাপত্র অস্বীকার করছেন এবং তাকে ভাড়াটিয়া আখ্যা দিয়ে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে আদালতে মামলা করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কোহিনুর বেগম।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০২৫ সালের ১ মে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে জানান। এরপর থেকে ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে নানাভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল ডাবলু তার বাড়ির বিদ্যুৎ মিটার থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং দখলে থাকা জমির সবজি ও গাছগাছালি নষ্ট করে দেন। এছাড়া তার বাড়িতে গিয়ে দুই দফা মারধরের ঘটনায় তিনি আহত হন বলেও দাবি করেন।

কোহিনুর বেগম বলেন, ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু কেশবপুর উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হওয়ায় দলের প্রভাব খাটিয়ে এসব অন্যায় ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে তিনি যশোর জেলা ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর বহিষ্কারের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বায়নাকৃত জমির দলিল সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
 

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/