• শুক্রবার , ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ | ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবজাতক চুরির দায়ে গৃহবধূর ১৪ বছরের কারাদণ্ড!

নবজাতক চুরির দায়ে গৃহবধূর ১৪ বছরের কারাদণ্ড!

আলামিন হোসেন: তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধি
আলামিন হোসেন: তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৪৮ ২২ অক্টোবর ২০২৫

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ঘটনায় আলপনা খাতুন (৩১) নামে এক গৃহবধূকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক বেগম সালমা খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলপনা খাতুন কামারখন্দ উপজেলার চরদোগাছী গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর চার আসামি—ছায়রন বেওয়া, মিনা খাতুন, মায়া খাতুন ও রবিউল ইসলামকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের মাজেদ আলীর স্ত্রী সবিতা খাতুন প্রসব বেদনা নিয়ে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

কিন্তু ওই দিন বিকেলেই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আলপনা খাতুন শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে চুরি করে নিয়ে যান। বিষয়টি টের পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়।

সলঙ্গা থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে। ওই রাতেই আলোকদিয়া গ্রামের সোলাইমান হোসেনের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া নবজাতকটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। একই সঙ্গে আলপনা খাতুনসহ আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে শিশুটির পিতা মাজেদ আলী বাদী হয়ে সলঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করে আলপনা খাতুনকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ের পর আদালত চত্বরে উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, “এ ধরনের অপরাধের শাস্তি সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। অন্য কেউ যেন এমন ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত না হয়।”

পিপি মাসুদুর রহমান মাসুদ আরও বলেন, “আমরা আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/