পঞ্চগড়ের ১৯৭১-এর মুক্তাঞ্চল তেতুলিয়া: ইতিহাসে ৫৪ বছরের গৌরবময় ‘২৯ নভেম্বর’


প্রকাশিত: ০৫:৫৬ ২৯ নভেম্বর ২০২৫
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে পঞ্চগড়ের নাম যেমন ইতিহাসে অমলিন, তেমনি ২৯ নভেম্বর দিনটি এই জেলার মানুষের কাছে গৌরব, বেদনা ও বিজয়ের এক অনন্য স্মৃতি। ঠিক ৫৪ বছর আগে, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হয় দেশের সর্বউত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়। এদিনকে ঘিরে প্রতিবছর জেলা জুড়ে পালিত হয় নানা স্মরণানুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা। তেঁতুলিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সেই গৌরবময় মুক্তাঞ্চলের স্মৃতি এখনো হৃদয়ে ধারণ করে চলেছে পঞ্চগড়বাসী।
এ বছরও—২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর—জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মানুষ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর স্মৃতিফলক থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের বধ্যভূমিতে গিয়ে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবে। পরে সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।
১৯৭১ সালে পঞ্চগড়ের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছিল ভিন্নমাত্রার। প্রথমদিকে এই অঞ্চলটি হানাদারমুক্ত থাকলেও, ১৭ এপ্রিল পাকবাহিনী সড়কপথে পঞ্চগড় দখল করে। এ সময় তালমা, অমরখানা, তেঁতুলিয়া ও আশেপাশের এলাকায় মুক্তিবাহিনীর শক্ত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। অমরখানায় চাওয়াই নদীর ব্রিজ ভেঙে দেওয়ায় পাকসেনারা তেঁতুলিয়ায় প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে পুরো যুদ্ধকালজুড়ে তেঁতুলিয়া ছিল পাকবাহিনীমুক্ত ‘মুক্তাঞ্চল’। অস্থায়ী সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয় তেঁতুলিয়ায়, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
পরে ১ নভেম্বর থেকে ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করলে পাকবাহিনী দুর্বল হতে থাকে। ২০ নভেম্বর অমরখানা, ২৫ নভেম্বর জগদলহাট, ২৬ নভেম্বর শিংপাড়া, ২৭ নভেম্বর পূর্ব তামলা—এভাবে শত্রুর অবস্থান একে একে ভেঙে পড়ে। ২৮ নভেম্বর রাতে পাকসেনারা দেবীগঞ্জ ও ডোমার হয়ে সৈয়দপুরের দিকে পিছু হটতে থাকে। আর ২৯ নভেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা পঞ্চগড় শহরে প্রবেশ করে—হানাদারের দখল থেকে পঞ্চগড়ের মুক্তি নিশ্চিত হয়।
২৯ নভেম্বর শুধু একটি জেলার মুক্তিদিবস নয়, এটি ছিল পূর্ব সীমান্তে মুক্তিযুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই দিনের মাধ্যমে পঞ্চগড় নতুন করে যোগ দেয় স্বাধীন বাংলার মানচিত্রে—বীরের গৌরব, আত্মত্যাগ ও অগণিত মানুষের স্বপ্নকে ধারণ করে।
পঞ্চগড়ের মানুষ আজও এই দিনটি স্মরণ করে অগাধ গর্ব ও শ্রদ্ধার সঙ্গে—কারণ এই দিনটির মধ্য দিয়েই ১৯৭১-এর বীরগাথা নতুন করে উচ্চারিত হয়, নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায় স্বাধীনতার সংগ্রামের সত্য ইতিহাস।
সর্বোচ্চ পঠিত - দেশজুড়ে
- নড়াইলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ ও গণমিছিল, দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান
- সহায়তা নয়, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যনির্ভর সম্পর্ক চায় যুক্তরাষ্ট্র
- নরওয়ের বিপক্ষে একসঙ্গে দেখা যেতে পারে নেইমার-ভিনিকে
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু: জামায়াত আমির
- ক্রিকেট ম্যাচে কনডমের বিজ্ঞাপন নিয়ে ক্ষুব্ধ ভারতীয় এমপি
- হামে শিশু মৃত্যুর অভিযোগে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
- ব্রাজিলের বিপক্ষে কঠিন লড়াই দেখছেন হালান্ড
- গৃহবন্দিত্বেই থাকবেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনেরো
- জুলাই বিপ্লবের অর্জন সবার, একক কারও নয়: প্রধানমন্ত্রী
- বরিশালে পুলিশের কাছ থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ কর্মীকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
- রিয়া মনি হত্যা মামলায় নাম নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রতিবাদ জানালেন সাভার পৌর ছাত্রদল নেতা রনি ইসলাম
- জনগণের অর্থ ব্যয় ছাড়াই বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি: তথ্য মন্ত্রণালয়
- এনসিপি জামায়াতের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে: রাশেদ খান
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সমন্বিত হামলার দাবি ইরানের
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
- ভারতের আটক শিবির থেকে ৯১ বাংলাদেশি জেলে ফিরিয়ে আনল সরকার
- বড়বাড়ি সীমান্তে পুশইন হওয়া ১০ জনকে ৭০ ঘণ্টা পর ফেরত নিল বিএসএফ
- সাভার পৌর ছাত্রদলে নতুন কমিটি গঠন, শীর্ষ পদে আরমান-হিমেল-নাঈম
- মহররম মাসেই হবে খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য
- ভারতের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে শিবাজীর মূর্তি বসাচ্ছে ইসরাইল





