• বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ হাদির কণ্ঠেও ভয়? মৃত্যুর ৭ দিনের মাথায় ‘বিদ্রোহী’ ভিডিও সরাল সরকার

শহীদ হাদির কণ্ঠেও ভয়? মৃত্যুর ৭ দিনের মাথায় ‘বিদ্রোহী’ ভিডিও সরাল সরকার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:০৬ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী বিপ্লবী শহীদ ওসমান বিন হাদির কণ্ঠে আবৃত্ত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার একটি ভিডিও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের মাত্র সাত দিনের মাথায় ভিডিওটি অপসারণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার রাত থেকে প্রধান উপদেষ্টার পেজে ভিডিওটি আর পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নজরে আসার পর জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, অ্যাক্টিভিস্ট ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার জুলাই ঐক্য নামের একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে বলা হয়,
“ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদির ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তির এই ভিডিও প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো—কার ইশারাতে? আমরা ইন্টারিম যেমন বানাতে পারি, তেমনি লাঠি মেরে নামাতেও জানি।”

এছাড়া Tales of July (জুলাইয়ের কথা) নামের আরেকটি পেজ থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়—“শহীদ ওসমান হাদির ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তির ভিডিও প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো কেন?”

ভিডিওটি কোন সিদ্ধান্তে এবং কী কারণে সরানো হয়েছে—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি ঘিরে জল্পনা, সন্দেহ ও সমালোচনা দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। অভিযোগ রয়েছে, এই হামলার পেছনে ভারতের মদদ ছিল। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এবং ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার তিনি শাহাদাতবরণ করেন।

শহীদ ওসমান বিন হাদির জানাজায় বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ঘটে, যা তার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে শহীদ হাদির কণ্ঠে আবৃত্ত একটি প্রতীকী কবিতার ভিডিও সরিয়ে নেওয়া সরকার ও আন্দোলনপন্থীদের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়াতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান না এলে বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/