• শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানমণ্ডি ৩২-এ টাঙানো হলো ভাসানী ও ওসমান হাদির ছবি

ধানমণ্ডি ৩২-এ টাঙানো হলো ভাসানী ও ওসমান হাদির ছবি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩০ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা বাড়িতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতা শরীফ ওসমান হাদির ছবি টাঙানো হয়েছে। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে রাজধানীতে আরিফ সোহেলের নেতৃত্বে একটি বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালি শেষে অংশগ্রহণকারীরা ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের স্মরণে প্রতিকৃতি টাঙান। এ সময় মওলানা ভাসানী ও শরীফ ওসমান হাদির পাশাপাশি সিরাজুল আলম খান, সিরাজ সিকদার ও মেজর জলিলের ছবিও সেখানে প্রদর্শন করা হয়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরিফ সোহেল বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সংগ্রামের অনেক নেতাকে পরিকল্পিতভাবে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। মওলানা ভাসানী, সিরাজ সিকদার, সিরাজুল আলম খান ও মেজর জলিলের মতো নেতারা জনগণের মুক্তির লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের অবদান আড়াল করা হয়েছে। একইভাবে বর্তমান সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা শরীফ ওসমান হাদির নামও উপেক্ষিত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরিফ সোহেল আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে কোনো একটি পরিবার বা রাজনৈতিক দলের একচ্ছত্র মালিকানা থেকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কোনো দল বা পরিবারের সম্পত্তি ছিল না; এটি ছিল কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষের জনযুদ্ধ।’

তিনি আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করে অভিযোগ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধকে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ও পারিবারিক ন্যারেটিভের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অথচ পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের সময় সাধারণ মানুষই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং যুদ্ধকে বিজয়ের দিকে নিয়ে যায়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচি কোনো প্রতীকী আয়োজন নয়; বরং ইতিহাসের বিকৃত উপস্থাপনার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ। ভবিষ্যতেও মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের অবদমিত ইতিহাস তুলে ধরতে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।

বিজয় দিবসে ধানমণ্ডি ৩২-এ এই কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এটিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পুনর্মূল্যায়নের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/