• বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটি টাকার ঘুষে ২৩৭ কোটি টাকার কর ফাইল বৈধ! লুকানো চুক্তি ফাঁস

কোটি টাকার ঘুষে ২৩৭ কোটি টাকার কর ফাইল বৈধ! লুকানো চুক্তি ফাঁস

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:১৭ ৭ অক্টোবর ২০২৫

এনবিআরের কর অঞ্চল-৫ এর বরখাস্তকৃত সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু কোটি টাকার ঘুষের মাধ্যমে ২৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার করফাইল বৈধ করার প্রমাণ মিলেছে দুদক সূত্রে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এসএ গ্রুপের কর্ণধার ও এসএ পরিবহনের মালিক সালাহ উদ্দিন আহমেদ তার ১২ কর বর্ষের কর ফাইল সম্পূর্ণ করে সাজানোর জন্য মিতুর সঙ্গে কোটি টাকার চুক্তি করেছিলেন। এই চুক্তির বিনিময়ে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষ পরিশোধ করা হয়। ঘুষের মাধ্যমে মিতু ওই ১২ বর্ষের পুরনো আয়কর রিটার্নসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি ব্যবসায়ী ও তার আইনজীবী ওবায়দুল হক সরকারের হাতে হস্তান্তর করেন।

রোববার (৫ অক্টোবর) দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম কর অঞ্চল-৫, ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ঘুষের মাধ্যমে নথি হস্তান্তরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদক এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এনবিআরের সূত্রে জানা গেছে, মিতুর সঙ্গে ১ কোটি টাকার চুক্তি ছিল। সেই চুক্তির মাধ্যমে ১২ বর্ষের কর ফাইল সাজিয়ে ২৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার আয় করমুক্ত সেবা খাতে যোগ করা হয়েছিল। সালাহ উদ্দিন আগেও বারবার করফাঁকি করলেও আদালতে তার পক্ষে রায় পাননি। পরে তার আইনজীবী নতুন কৌশল নিয়ে আসেন এবং সার্কেল কর্মকর্তার সঙ্গে কোটি টাকার ঘুষের চুক্তি করেন।

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ১ সেপ্টেম্বর মিতুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও আইনজীবী ওবায়দুল হক সরকারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে ৪৪৯ কোটি টাকার অস্বাভাবিক সম্পদ হস্তান্তরের তথ্য, যেখানে পুতুল, সালমান, আজিজ খানসহ মোট ৩৫ জন সংশ্লিষ্ট হতে পারেন।

দুদক জানায়, কর অঞ্চল-৫ এর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ও ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রাজস্বে ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে কমিশনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/