• বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকীতে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’

শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকীতে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৩২ ৭ অক্টোবর ২০২৫

শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর পলাশী মোড়ে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে স্মরণসভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শহীদ আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ।

‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’-এর পরিকল্পনাকারী ও স্বপ্নদ্রষ্টা আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি জানান, “এই স্তম্ভ শুধু একটি স্মৃতিস্তম্ভ নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতির মর্যাদার প্রতীক।”

২০২০ সালের ৭ অক্টোবর, আবরারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এই ‘আট স্তম্ভ’ নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশে সেটি ভেঙে ফেলা হয়। সেই সময় নির্মাণের নেতৃত্ব দেওয়া আখতার হোসেন ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছিলেন।

স্মৃতিস্তম্ভের ফলকে লেখা রয়েছে আবরারের প্রিয় উক্তি—“অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা, অসীম মহাকাশের অন্তে।” এই বাক্যটি আবরার নিজেও তার ফেসবুক প্রোফাইলে ব্যবহার করেছিলেন।

আখতার হোসেন বলেন, “ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে ছয় বছর আগে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়। তাই এই স্থাপনাটির নাম রাখা হয়েছে ‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’। আমরা চাই, এটি হোক জাতীয় স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।”

তিনি আরও বলেন, “‘আট স্তম্ভ’ আসলে আটটি মৌলিক নীতির প্রতীক—সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, গণপ্রতিরক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, দেশীয় শিল্প–কৃষি ও নদী–বন–বন্দর রক্ষা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদা। এই আটটি নীতির মধ্যেই নিহিত আছে একটি আগ্রাসনমুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন।”

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও স্মরণসভায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে। তার এই আত্মত্যাগই আজ বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা তরুণ সমাজের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/