• বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থূলতা একটি রোগ, প্রতিরোধে প্রতিদিনের ৬টি অভ্যাস জরুরি

স্থূলতা একটি রোগ, প্রতিরোধে প্রতিদিনের ৬টি অভ্যাস জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:০৭ ৪ মার্চ ২০২৬

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটির বেশি মানুষ স্থূলতা বা ওবেসিটিতে ভুগছেন, যার মধ্যে প্রায় ৪০ কোটি শিশু ও কিশোর–কিশোরী। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেক মানুষ ওজনাধিক্য বা স্থূলতায় আক্রান্ত হতে পারেন। প্রতিবছর আনুমানিক ১৭ লাখ অকালমৃত্যুর পেছনে স্থূলতাজনিত অসংক্রামক রোগ দায়ী।

এই প্রেক্ষাপটে প্রতি বছর ৪ মার্চ পালিত হয় World Obesity Day। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য— “কমপক্ষে ৮০০ কোটি কারণ রয়েছে কেন আপনি স্থূলতা প্রতিরোধে সচেতন হবেন।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি, জটিল ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ।

আপনার ওজন কি স্বাভাবিক?

নিজের ওজন স্বাভাবিক কি না তা জানতে সহজ একটি পদ্ধতি রয়েছে—বডি মাস ইনডেক্স (BMI)।

হিসাবের নিয়ম:
ওজন (কেজি) ÷ [উচ্চতা (মিটার)]²

BMI অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ (আন্তর্জাতিক মানদণ্ড)

  • ২৫ বা তার বেশি → ওভারওয়েট
  • ৩০ বা তার বেশি → স্থূলতা
  • ৪০ বা তার বেশি → গুরুতর স্থূলতা

এশীয়দের ক্ষেত্রে

  • ২৩ বা তার বেশি → ওভারওয়েট
  • ২৭ বা তার বেশি → স্থূলতা

এ ছাড়া কোমরের মাপও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। পুরুষদের ক্ষেত্রে ৯০ সেমি এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৮০ সেমির বেশি হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।

স্থূলতা কেন বিপজ্জনক?

স্থূলতা ৪০০–এর বেশি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে—

  • টাইপ–২ ডায়াবেটিস
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • হৃদরোগ ও স্ট্রোক
  • ফ্যাটি লিভার
  • কিডনি রোগ
  • বন্ধ্যত্ব
  • কিছু ক্যানসার
  • মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা

অর্থাৎ, স্থূলতা একটি বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং শরীরের প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলে।

স্থূলতা প্রতিরোধে ৬টি করণীয়

Bangladesh Endocrine Society প্রতিদিনের জীবনে ছয়টি অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে—

১. চিনিযুক্ত পানীয় বর্জন

সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস ও প্যাকেটজাত জুসে উচ্চমাত্রার চিনি থাকে। এগুলো অতিরিক্ত ক্যালোরি সরবরাহ করে এবং দ্রুত ওজন বাড়ায়। পানির অভ্যাস বাড়ানো উচিত।

২. প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা শারীরিক কসরত

হাঁটা, দৌড়, সাইক্লিং, সাঁতার বা খেলাধুলা—যেকোনো নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। সপ্তাহে অন্তত ১৫০–৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম উপকারী।

৩. স্ক্রিন টাইম ২ ঘণ্টার কম রাখা

দীর্ঘ সময় টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বাড়ে। প্রতি ৩০ মিনিট পরপর কিছুক্ষণ হাঁটা বা নড়াচড়া করা উচিত।

৪. তিন বেলা সুষম ও পরিমিত খাবার

খাবারে থাকতে হবে পরিমিত কার্বোহাইড্রেট, পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং আঁশযুক্ত শাকসবজি। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি।

৫. প্রতিদিন পাঁচবার ফল ও সবজি

ফল ও সবজি শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ সরবরাহ করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৬. কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ঘুম

ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ক্ষুধা বাড়ায় এবং ওজন বৃদ্ধি করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম আদর্শ।

চিকিৎসা ও সচেতনতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দ্রুত ওজন কমানোর টোটকা বা হারবাল পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। স্থূলতার চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো—

  1. জীবনধারা পরিবর্তন
  2. সুষম খাদ্য পরিকল্পনা
  3. নিয়মিত ব্যায়াম
  4. প্রয়োজনে ওষুধ বা সার্জারি (বিশেষজ্ঞের পরামর্শে)

মনে রাখবেন

স্থূলতা লজ্জার বিষয় নয়; এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ। সময়মতো সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে স্থূলতা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বিশ্ব স্থূলতা দিবসে সচেতনতার এই বার্তা হোক সবার জন্য সুস্থ জীবনের অঙ্গীকার।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/