• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদা চামড়া ও চুলকানি? শীতে মাথার ত্বকের সোরিয়াসিস বুঝতে যা জানা দরকার

সাদা চামড়া ও চুলকানি? শীতে মাথার ত্বকের সোরিয়াসিস বুঝতে যা জানা দরকার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪০ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতকালে অনেকেরই মাথার ত্বকে সাদা চামড়া উঠে আসে। সাধারণত মানুষ এটিকে খুশকি বা শুষ্ক ত্বকের ফল মনে করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এটি স্কাল্প সোরিয়াসিস বা ত্বকের প্রদাহজনিত রোগের লক্ষণ হতে পারে।

সোরিয়াসিস কী?

সোরিয়াসিস হলো ত্বকের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ, যা ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক কার্যকলাপের কারণে ঘটে।

এতে আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যায়, চুলকায় এবং সাদা আঁশের মতো চামড়া উঠে আসে।

এটি সাধারণ খুশকির চেয়ে বেশি মোটা এবং ঘন চামড়া হিসেবে দেখা যায়।

মাথার ত্বক ছাড়াও এটি কপাল, কান, হাত-পা, নখ এবং শরীরের অন্যান্য অংশে দেখা দিতে পারে।

স্কাল্প সোরিয়াসিসে এই চামড়া খুশকির মতো হলেও, এটি স্যাভিশন বা খুশকির শ্যাম্পুতে কমে না।

কেন হয় সোরিয়াসিস?

সোরিয়াসিসের সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে প্রধান কারণগুলো হলো:

ইমিউনজনিত সমস্যা:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ত্বকের কোষগুলোকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে বাধ্য করে।

বংশগত কারণ:
পরিবারের কেউ এই রোগে আক্রান্ত থাকলে অন্য সদস্যদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

পরিবেশগত প্রভাব:

শীতের শুষ্ক আবহাওয়া

ঋতু পরিবর্তন

উদ্বেগ বা মানসিক চাপ

ধূমপান ও জীবনধারার প্রভাব:
নিয়মিত ধূমপান বা অসুস্থ জীবনধারা রোগের প্রকোপ বাড়াতে পারে।

মাথার ত্বকে সোরিয়াসিসের লক্ষণ

সাধারণ খুশকির সঙ্গে বিভ্রান্ত না হয়ে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো লক্ষ্য করা জরুরি:

সাদা বা ধূসর আঁশের মতো চামড়া:

খুশকির চেয়ে মোটা এবং ঘন

নখ দিয়ে ঘষলে সহজে উঠে আসে

লাল ভাব এবং চুলকানি:

মাথার ত্বকে লাল চিহ্ন

চুলকানি যা সাধারণ খুশকির চেয়ে বেশি

কপাল ও কানের পাশে ছোপ:

ছোট ছোট সাদা বা লাল ছোপ দেখা দিতে পারে

নখ ও হাত-পায় প্রভাব:

নখে গর্ত বা ধুলো জাতীয় অবস্থা

হালকা ব্যথা বা জ্বালা

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের সম্ভাবনা:

সংক্রমণের সঙ্গে জোড়া ব্যথা, বিশেষ করে হাত ও পায়ে

সোরিয়াসিসের সমাধান ও চিকিৎসা

খুশকির শ্যাম্পু দিয়ে সাধারণভাবে এটি কমে না। চিকিৎসা শুরু করার জন্য ডার্মাটোলজিস্ট বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি:

টপিকাল থেরাপি (মলম ও ক্রিম):

কর্টিকোস্টেরয়েড ক্রিম বা মলম

সালিসাইলিক অ্যাসিড যুক্ত শ্যাম্পু

ওষুধ:

প্রয়োজন হলে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ খাওয়া হতে পারে

ফিজিক্যাল থেরাপি:

এক্সাইমার লেজার

ইউভি-বি লাইট থেরাপি

জীবনধারার পরিবর্তন:

স্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত পুষ্টি

নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

তেল মালিশ বা চুলকানো এড়ানো

উদ্বেগ ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ:

শীতের সময় শুষ্কতা নিয়ন্ত্রণ

ঘরে আর্দ্রতা বজায় রাখা

সতর্কবার্তা

সোরিয়াসিস সংক্রামক নয়, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ।

পরিবারের ইতিহাস থাকলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

চুলকানি, লাল ভাব, এবং নখের সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/