• মঙ্গলবার , ২০ অক্টোবর, ২০২৬ | ৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুদানে একের পর এক ড্রোন হামলা, প্রাণহানি ছাড়াল ১৬০ যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে

সুদানে একের পর এক ড্রোন হামলা, প্রাণহানি ছাড়াল ১৬০ যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৩ ২০ অক্টোবর ২০২৬

বিভিন্ন অঞ্চলে সিরিজ ড্রোন হামলায় নারী ও শিশুসহ ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির চিকিৎসাকর্মী এবং স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের জমায়েত ও আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে এসব প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।   মানবাধিকার সংস্থা ইমার্জেন্সি লয়ার্স এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানী খার্তুমে পৃথক হামলায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরের একটি পরিবহন কেন্দ্রে। সেখানে সাপ্তাহিক বাজার শেষে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের ওপর ড্রোন থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়।   সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আল-দিবাবে ঘটনাস্থলেই ৮০ জন নিহত হন। গুরুতর আহত ৪৭ জনকে নিকটবর্তী আল-মুজলিয়াদ শহরে নেওয়া হলে সেখানে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়। আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং অধিকারকর্মীরা এই হামলার জন্য সরকারি সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে।

এদিকে দেশটির নীল নদ সংলগ্ন ব্লু নাইল রাজ্যে আরএসএফের চালানো ড্রোন হামলায় বাস্তুচ্যুত ৪১ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণকারী দলগুলো। এর বাইরে দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে হওয়া অন্য এক হামলায় সাতজন আরএসএফ কর্মকর্তাসহ ১৭ জন নিহত এবং অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন।   সুদানজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর অব্যাহত ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক। তিনি সংঘাতকবলিত অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন।   ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা পরিষদে তা নিয়ে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন