• মঙ্গলবার , ৩০ জুন, ২০২৬ | ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ঐতিহাসিক নরক’ তৈরির হুমকি, ইরানে ১০ লাখের বেশি যোদ্ধা প্রস্তুত

‘ঐতিহাসিক নরক’ তৈরির হুমকি, ইরানে ১০ লাখের বেশি যোদ্ধা প্রস্তুত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:২৫ ২৮ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে ইরান ১০ লাখেরও বেশি যোদ্ধা প্রস্তুত রেখেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা যায়, Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি), বাসিজ বাহিনী এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই বিপুল সংখ্যক যোদ্ধাকে সংগঠিত করা হয়েছে। দেশজুড়ে নিয়োগ কেন্দ্রগুলোতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যাপক ভিড়ও দেখা যাচ্ছে।

সামরিক সূত্রের দাবি, এই বাহিনী সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং ইরানের মাটিতে শত্রুপক্ষের জন্য ‘ঐতিহাসিক নরক’ তৈরি করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। অভিজাত 82nd Airborne Division-এর সেনাদের মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে, যারা ইতোমধ্যে অবস্থানরত মার্কিন মেরিনদের সঙ্গে যোগ দেবে বলে জানা গেছে।

তবে কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করছেন, আলোচনা এগোচ্ছে, কিন্তু তেহরান প্রকাশ্যে সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনারা প্রবেশ করলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

এদিকে ট্রাম্প একটি ‘রহস্যময় উপহার’-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, ইরান সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ১০টি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে Hormuz Strait দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন জাহাজ আটকে দেওয়া হলেও কিছু নিরপেক্ষ জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক চাপও তৈরি করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ১৬ দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ১১ হাজারের বেশি গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। এতে অস্ত্রের মজুত কমে আসছে এবং প্রয়োজন হলে কম নির্ভুল ‘ডাম্ব বম্ব’ ব্যবহারের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

উত্তেজনার মধ্যেও গোপনে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও প্রকাশ্যে কেউই তা স্বীকার করছে না। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ প্রস্তুতি ও গোপন আলোচনার এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

সূত্র : এনডিটিভি

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/