• মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ | ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের হুমকির মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে শক্তি প্রদর্শন: আরও সেনা মোতায়েন করল ডেনমার্ক

ট্রাম্পের হুমকির মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে শক্তি প্রদর্শন: আরও সেনা মোতায়েন করল ডেনমার্ক

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৯ ২০ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রকাশ্য হুমকির প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা বাড়তেই ডেনমার্ক আর্কটিক অঞ্চলটিতে আরও সেনা মোতায়েন করেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রয়্যাল ডেনিশ সেনাবাহিনীর প্রধান পিটার বয়েসেনের নেতৃত্বে একটি উল্লেখযোগ্য সেনাদল পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের কাঙ্গারলুসুয়াক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেনমার্কের পাবলিক ব্রডকাস্টার টিভি২ জানিয়েছে, নতুন করে পাঠানো ৫৮ জন ডেনিশ সেনা ‘অপারেশন আর্কটিক এন্ডুরেন্স’ নামে চলমান একটি বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে। এর আগে একই অভিযানে অংশ নিতে প্রায় ৬০ জন সেনা গ্রিনল্যান্ডে অবস্থান করছিল। ফলে এই নতুন মোতায়েনের মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলে ডেনিশ সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার হলো।

যদিও বিষয়টি নিয়ে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মোতায়েন নিছক সামরিক মহড়ার অংশ হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক গভীর।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের মতো বিশাল ও খনিজ-সমৃদ্ধ আর্কটিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডেনমার্কের এই সেনা মোতায়েনের ঘটনা ঘটে। ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে ডেনমার্ক প্রকাশ্যেই গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নয়। ডেনিশ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, জোরপূর্বক দ্বীপটি দখলের চেষ্টা করা হলে তা ন্যাটোর অস্তিত্ব ও ঐক্যের ওপর গুরুতর আঘাত হানবে।

গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে ট্রাম্পের একগুঁয়ে অবস্থান ইতোমধ্যেই মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট সোমবার ডেনিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন্ড পলসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার, ডেনিশ ভূখণ্ডে একটি যৌথ ন্যাটো মিশন প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের হুমকি ও ডেনমার্কের সেনা মোতায়েন গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আগামী দিনে ন্যাটো ও পশ্চিমা জোটের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/