• মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ | ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলাপোকা মারতে গিয়ে পুরো অ্যাপার্টমেন্টে আগুন! প্রাণ গেল এক নারীর

তেলাপোকা মারতে গিয়ে পুরো অ্যাপার্টমেন্টে আগুন! প্রাণ গেল এক নারীর

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৫০ ২১ অক্টোবর ২০২৫

দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ওসান শহরে তেলাপোকা মারতে গিয়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক নারী মারা গেছেন এবং আরও আটজন ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগানোর ঘটনায় ২০ বছরের কোঠায় থাকা এক নারীর বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হবে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী নিজের অ্যাপার্টমেন্টে তেলাপোকা মারার জন্য দাহ্য পদার্থ স্প্রে করে লাইটার দিয়ে আগুন ধরান। তিনি পুলিশকে জানান, এর আগে একাধিকবার একইভাবে তেলাপোকা মেরেছেন। তবে সোমবার ওই কাজ করতে গিয়ে আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো অ্যাপার্টমেন্টজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

আগুন লাগার পর ভবনের বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন। পঞ্চম তলায় বসবাসকারী এক চীনা নাগরিক দম্পতি তাদের দুই মাস বয়সী সন্তানকে পাশের ভবনের প্রতিবেশীর কাছে ছুড়ে দেন। সন্তানটি নিরাপদে উদ্ধার হলেও ওই নারী জানালা দিয়ে বের হতে গিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর স্বামী জানালার কার্নিশ ধরে পাশের ভবনে যেতে সক্ষম হন।

পুলিশ জানিয়েছে, দম্পতি সম্ভবত ঘন ধোঁয়ার কারণে সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারেননি। পরে জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়েই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ভবনটির প্রথম তলায় দোকান এবং দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত মোট ৩২টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। আগুন লাগার পর দমকল কর্মীরা দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ধোঁয়ায় আরও আটজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাহ্য পদার্থ বা ব্লোটর্চ ব্যবহার করে তেলাপোকা ও অন্যান্য পোকামাকড় মারার প্রবণতা বেড়েছে। অনেকেই বাড়িতেই দাহ্য পদার্থ তৈরি করে তা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে পোকামাকড় নিধন করেন। কিন্তু এই বিপজ্জনক পদ্ধতির কারণে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

২০১৮ সালেও অস্ট্রেলিয়ায় এক ব্যক্তি ঘরোয়া ফ্লেমথ্রোয়ার ব্যবহার করে তেলাপোকা মারতে গিয়ে নিজের রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পদ্ধতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ঘরবাড়ি বা মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওসান শহরের এই দুর্ঘটনায় নিহত নারী চীনের নাগরিক ছিলেন। ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/