• শুক্রবার , ৩১ জুলাই, ২০২৬ | ১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষক থেকে খুচরা বাজারে আসতেই ১০ নিত্যপণ্যের দাম দ্বিগুণ: সিপিডির গবেষণা

কৃষক থেকে খুচরা বাজারে আসতেই ১০ নিত্যপণ্যের দাম দ্বিগুণ: সিপিডির গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৪ ৩১ জুলাই ২০২৬

কৃষকের মাঠ থেকে ভোক্তার পাত পর্যন্ত পৌঁছাতে একাধিক ধাপ অতিক্রম করার সময় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। মধ্যস্বত্বভোগী, মিলার, আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতাদের অতিরিক্ত মুনাফা প্রবণতা এবং পরিবহন ব্যবস্থার চাঁদাবাজির কারণে দেশের অন্তত ১০টি নিত্যপণ্যের দাম কৃষক পর্যায়ের তুলনায় কখনো কখনো দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’ (সিপিডি) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি সংলাপে সংস্থাটি দেশের ৮১০টি বাজার পর্যালোচনা করে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে।

সিপিডির গবেষণায় বলা হয়, পণ্যভেদে বাজারভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধির ধাপে ভিন্নতা রয়েছে। চালের ক্ষেত্রে মিলার পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি (কেজিপ্রতি প্রায় ১৮ টাকা) দাম বাড়ে, যার ফলে ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছাতে চালের গড় দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। একইভাবে ডাল ও কাঁচামরিচের ক্ষেত্রে শহরের আড়তদাররা এবং বেগুন ও আলুর বাজারে খুচরা বিক্রেতারা সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেন। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের মধ্যে কাঁচামরিচে ১১৬ শতাংশ, পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, মসুর ডালে ৭৮ শতাংশ, বেগুনে ৭২ শতাংশ, আলুতে ৫০ শতাংশ এবং ডিমে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।

সংলাপে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ও অন্যান্য অর্থনীতিবিদরা জানান, বাজারে পর্যাপ্ত নজরদারি ও স্বচ্ছতার অভাবে সরবরাহব্যবস্থার স্তরে স্তরে অন্যায্য মুনাফা করা হচ্ছে। এতে কৃষক পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ভোক্তাকেও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে মাছের বাজারে আড়তদার, ডিম-মুরগির ক্ষেত্রে পাইকার এবং গরুর মাংসের ক্ষেত্রে ব্যাপারিরা দাম বাড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির স্বীকার করেন যে, কৃষিপণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি ও উচ্চ লজিস্টিক ব্যয় দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী জিডিপির গড়ে ১০ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয় হলেও বাংলাদেশে তা প্রায় ১৬ শতাংশ, যা কমানো জরুরি। এছাড়া সংলাপে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানান, পরিবহনে অদৃশ্য চাঁদাবাজির কারণে অনেক সময় পণ্যের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন