• রবিবার , ০৫ জুলাই, ২০২৬ | ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সহায়তা নয়, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যনির্ভর সম্পর্ক চায় যুক্তরাষ্ট্র

সহায়তা নয়, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যনির্ভর সম্পর্ক চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৪০ ৫ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আনতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। অনুদান বা একতরফা সুবিধার ওপর নির্ভরশীল সম্পর্কের পরিবর্তে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বার্তা দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। রাজধানীর শেরাটন হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের একা চলার কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে এমন সম্পর্ক গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যেখানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের মানুষ সমানভাবে লাভবান হতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত চুক্তিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, দেশের সক্রিয় বেসরকারি খাত এবং বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে।

তবে এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বিশেষ করে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দুর্নীতি মোকাবিলা, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশ কয়েকটি খাতে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, সহজ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রযুক্তি দেশে আনার ক্ষেত্রেও বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশের বড় তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে তুলে ধরেন মাহদি আমিন। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ, বিভিন্ন কর সুবিধা, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কসহ বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে।

এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তার মতে, মার্কিন বিনিয়োগ বাড়লে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়বে।

অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সংগঠনটি ভূমিকা রেখে আসছে। টেলিযোগাযোগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, তৈরি পোশাক, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং এভিয়েশনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও জ্ঞান বিনিময়ে অ্যামচ্যাম সহযোগিতা করেছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অ্যামচ্যাম দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এই ভূমিকা অব্যাহত রাখা হবে।

অ্যামচ্যামের নির্বাহী কমিটিতে মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যিক উপদেষ্টাকে যুক্ত করার বিষয়টিও তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি। তার মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।

অ্যামচ্যামের সহসভাপতি মুহাম্মদ আলাউদ্দীন আহমাদ বলেন, প্রতিযোগিতামূলক এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে দুই দেশের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে তাদের সংগঠন।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা জানান তিনি। পারস্পরিক অংশীদারত্ব, বন্ধুত্ব এবং যৌথ সাফল্যের ভিত্তিতে দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন অ্যামচ্যাম সহসভাপতি।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/