ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদ


প্রকাশিত: ১২:৪৭ ২১ জানুয়ারী ২০২৬
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ অবশেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। তার বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ৭টিই আদালতে প্রমাণিত হয়।
আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ১৪ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ, ১০ জনকে বেআইনিভাবে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং অন্তত ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন। এসব নৃশংস অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। সে সময় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করে, আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটিতেই আবুল কালাম আজাদকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হয়। যদিও আরও চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ ছিল, তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় সেসব অপরাধে পৃথক দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়নি। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।
এই মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়। কারণ এটিই ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত প্রথম যুদ্ধাপরাধের রায়। তবে রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আজাদ পলাতক থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারত হয়ে পাকিস্তানে চলে যান।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর, যেদিন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন। পরবর্তীতে ঘোষিত রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর আবুল কালাম আজাদ নিজের সাজা স্থগিতের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষাপটেই তার আত্মসমর্পণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর তার আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হলো বলে মনে করছেন আইন ও ইতিহাস সংশ্লিষ্ট মহল।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - অপরাধ ও শৃঙ্খলা
- ফের ‘জান্নাত’ নিয়ে আসছেন ইমরান হাশমি, আসছে ‘জান্নাত ৩’
- আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত: রাশেদ খান
- ভারতে ‘ভূত আতঙ্কে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, চিকিৎসকদের ভিন্ন ব্যাখ্যা
- সরকারের ১৮০ দিনের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ, এখন দৃশ্যমান ফলাফলের সময়: শিক্ষামন্ত্রী
- গ্যাস সংকট কাটাতে লাগতে পারে দুই বছর, অবকাঠামো নির্মাণের কথা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
- কলকাতার রাজপথের মিছিলে জয়া আহসান, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা
- ‘ওয়েল ডান বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম’ বললেন জামায়াত আমির
- টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় কি লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব? জানুন বিজ্ঞান কী বলে
- সীমান্তে ঢুকে পড়ল উত্তর কোরিয়ার সেনারা, গুলি ছুড়ে সতর্ক করল দক্ষিণ কোরিয়া
- নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার ঘোষণা, উচ্চশিক্ষায় নতুন সুযোগের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
- ১৫০০ কোটি টাকার ‘সুফল’ প্রকল্পে দুর্নীতি: বন অধিদপ্তরে দুদকের অভিযান ও নথি তলব
- লামিনে ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে দাদির ত্যাগের গল্প, যেভাবে বদলে গেল জীবন
- ম্যাজিক চুলায় ভাত রাঁধতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু
- জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হতে পারে: বিরোধীদলীয় নেতা
- এক বছরের মধ্যে জুলাই গণহত্যার সব তদন্ত শেষ করার আশা চিফ প্রসিকিউটরের
- ঢাকার মঞ্চে আজ পারফর্ম করবেন আন্তর্জাতিক ডিজে সঞ্জয় দেব
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী
- অধিনায়কত্ব হারানোর পথে মিরাজ, নতুন দায়িত্ব পাচ্ছেন কে?
- গভীর নিম্নচাপে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
- 'মুখে হাড় থাকলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না': বলিউডের নীরবতা নিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহ্র কটাক্ষ




