• শুক্রবার , ০৮ মে, ২০২৬ | ২৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের আসল পরিচয় প্রকাশ, বেরিয়ে এলো যে ভয়ংকর তথ্য

‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের আসল পরিচয় প্রকাশ, বেরিয়ে এলো যে ভয়ংকর তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৩ ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আলোচনায় আসা ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় ও অপরাধের ভয়ংকর পটভূমি সামনে এসেছে। ঢাকা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাটের আসল নাম সবুজ শেখ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া পরিচয়ে নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ বা ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ পরিচয় দিয়ে সাভার এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন এবং সুযোগ বুঝে ভবঘুরে নারী-পুরুষদের হত্যা করতেন।

ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই ছিল সম্রাটের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ভবন ও নির্জন এলাকায় নিয়ে আসতেন। পরে কোনো কারণে সন্দেহ, ঈর্ষা বা ‘অনৈতিক কাজ’-এর অভিযোগ তুলেই তিনি নির্মমভাবে তাদের হত্যা করতেন।

পুলিশ জানায়, সবুজ শেখ মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তারা তিন ভাই ও চার বোন। বড় বোন শারমিন, এরপর সবুজ শেখ এবং আরও দুই ভাই-বোন রয়েছে। তাদের নানাবাড়ি বরিশাল এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি ভবঘুরে জীবনযাপন করছিলেন।

সর্বশেষ ঘটনায় পুলিশ জানায়, তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এনে রাখেন। ওই তরুণীর সঙ্গে অন্য এক ভবঘুরে যুবকের শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে যুবককে কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় নিয়ে হত্যা করেন। পরে নিচতলায় এনে তানিয়াকেও হত্যা করা হয়। হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও স্বীকার করেছেন তিনি।

গত সোমবার আদালতে জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাকে ১০ দিনের রিমান্ড শেষে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ আরও জানায়, সম্রাট প্রায়ই সাভার মডেল থানার সামনে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজা মোড় এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা চেয়ে দিন চালাতেন। অনেক সময় তার হাতে স্মার্টফোন দেখা গেলেও একটি বাটন ফোন সবসময় সঙ্গে থাকত। অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, উচ্চস্বরে গালিগালাজ এবং অস্বাভাবিক আচরণের জন্য তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন।

ঢাকা জেলা ডিবির (উত্তর) পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, সম্রাট বারবার নিজের নাম, ঠিকানা ও পারিবারিক তথ্য বদলে বলায় তদন্তে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশের কাছে তার বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী জানান, প্রাথমিক তদন্তে সম্রাটকে একজন বিকৃতরুচির ও সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ ও আরও কোনো অপরাধে তিনি জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত সাত মাসে সাভার এলাকায় ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সম্রাটের নাম উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার, এরপর পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় একাধিক অজ্ঞাতনামা নারী ও পুরুষের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা মিলেছে। এসব ঘটনায় সাভারজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পুলিশ তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/