• বৃহস্পতিবার , ০৭ মে, ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণে স্বচ্ছতার অভাব, ৭ হাজার ৬০ কৃষকের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন?

বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণে স্বচ্ছতার অভাব, ৭ হাজার ৬০ কৃষকের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন?

শাকিল আহমেদ: নড়াইল প্রতিনিধি
শাকিল আহমেদ: নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২:৫৬ ৮ নভেম্বর ২০২৫

নড়াইলের লোহাগড়ায় চলতি অর্থবছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য রবি মৌসুমে প্রণোদনার সার-বীজ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গম, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, শীতকালীন পেঁয়াজ, মসুর, খেসারি ও অড়হড় চাষে কৃষকদের বিনামূল্যে সার-বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গম ৫৫০ বিঘা, সরিষা ৪৪০০ বিঘা, সূর্যমুখী ১৭০ বিঘা, চিনাবাদাম ১০০ বিঘা, পেঁয়াজ ৮০ বিঘা, মসুর ১,২৭০ বিঘা, খেসারি ৪৬০ বিঘা ও অড়হড় ৩০ বিঘা জমিতে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৭ হাজার ৬০ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করা হলেও সেই তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রান্তিক কৃষক দাবি করছেন, তারা আবেদন করেও তালিকায় নাম পাননি, অথচ কৃষি উপযোগী জমি না থাকা ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তালিকার সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয় সাংবাদিকরা ২ নভেম্বর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সালমান জামান তালিকা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান এবং তথ্য পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করতে নির্দেশ দেন। এরপর সাংবাদিক কাজী আশরাফ তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে প্রথমে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ৫ নভেম্বর জানানো হয়, সম্পূর্ণ তথ্য এখনও দেওয়া যাবে না এবং আংশিক তথ্যের জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সালমান জামান জানিয়েছেন, “উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কৃষকদের মোবাইল নম্বর বাদে নামের তালিকা দেওয়া হবে।” সাংবাদিক কাজী আশরাফ বলেন, সরকারের বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ প্রকল্পটি কৃষকদের জন্য যুগান্তকারী উদ্যোগ হলেও প্রকৃত কৃষকরা যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছতা ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকরা বঞ্চিত হবেন এবং প্রণোদনার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/