• বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’: বিশ্বকাপ বয়কটের পথে পাকিস্তান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের

বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’: বিশ্বকাপ বয়কটের পথে পাকিস্তান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৪৩ ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ও কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তান সরকার দেশটির জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য এই আসর নিয়ে ইসলামাবাদে অসন্তোষ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউজ জানিয়েছে, ফেডারেল সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে পারে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উচিত নয়। আইসিসির সিদ্ধান্তে ‘স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ড’ প্রয়োগ করা হয়েছে—এমন অভিযোগই এই অসন্তোষের মূল কারণ।

ঘটনার সূত্রপাত হয়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে চাইলে আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পরই পাকিস্তান সরকার বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনায় নেয় এবং আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ সোমবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতেই। তবে প্রাথমিক ইঙ্গিত হচ্ছে, সরকার পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে অনুমতি নাও দিতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি শুধু ক্রিকেট নয়, নীতির প্রশ্ন। বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইসিসির এমন সৎমায়ের আচরণ আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।”

ওই সূত্র আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বৈত নীতি গ্রহণযোগ্য নয়। “একদিকে ভারত নিজেদের সুবিধামতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়, অন্যদিকে বাংলাদেশ নিরাপত্তার কথা বলেও ভেন্যু পরিবর্তনের অনুমতি পায় না। আইসিসি যদি সত্যিই বৈশ্বিক ক্রিকেট চায়, তাহলে এই বাছাই করা নীতি বন্ধ করতেই হবে,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।

এর আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিও আইসিসির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা আইসিসির নীতিগত অসঙ্গতিরই প্রমাণ, যা ক্রিকেটের ন্যায্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তবে নাকভি স্পষ্ট করে জানান, এ বিষয়ে পিসিবি সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। “পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সরকারের। পিসিবি সেই সিদ্ধান্ত মেনেই চলবে,”—বলেন তিনি।

এদিকে লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও চেয়ারম্যান নাকভির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। খেলোয়াড়রা একবাক্যে জানিয়েছেন, সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক—বিশ্বকাপ খেলা হোক বা না হোক—তারা সেই সিদ্ধান্তকেই সম্মান জানাবেন।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/