শুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১০ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০৯:১৯ ১৬ অক্টোবর ২০২৫
বিশ্ব ক্রিকেটে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়—‘টেস্ট টোয়েন্টি’র আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে। এটি এমন এক বিপ্লবী ক্রিকেট ফরম্যাট, যেখানে টেস্ট ক্রিকেটের কৌশল ও গভীরতা বজায় রেখে একদিনেই ম্যাচ শেষ হবে। প্রতিটি ম্যাচে থাকবে দুই ইনিংস, প্রতিটি ইনিংস হবে ২০ ওভার করে। অর্থাৎ, টেস্টের ভাবমূর্তি ও টি–টোয়েন্টির রোমাঞ্চ মিলিয়ে গঠিত এই নতুন ফরম্যাট ক্রিকেটকে নিয়ে যেতে পারে এক ভিন্ন উচ্চতায়।
এই অভিনব ফরম্যাটের উদ্ভাবক ওয়ান-ওয়ান সিক্স নেটওয়ার্কের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও ক্রীড়া উদ্যোক্তা গৌরব বাহিরভানি। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি নতুন লিগ নয়, বরং ক্রিকেটের ঐতিহ্য ধরে রেখে ভবিষ্যৎ গড়ার একটি প্রচেষ্টা। আমরা চাই এই ফরম্যাটের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের প্রতিভা সঠিকভাবে উদঘাটন ও উদযাপন করা হোক।” তাঁর ধারণা অনুযায়ী, টেস্ট টোয়েন্টি এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে টেস্ট ক্রিকেটের চিন্তাশক্তি ও কৌশল থাকবে, কিন্তু খেলা হবে টি–টোয়েন্টির গতিতে—দর্শক পাবে দ্রুতগতির রোমাঞ্চ, খেলোয়াড় পাবে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।
নতুন এই টুর্নামেন্টের প্রথম মৌসুম শুরু হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। উদ্বোধনী আসরে অংশ নেবে ছয়টি আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি দল। প্রতিটি দলে থাকবে আটজন স্থানীয় ও আটজন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, যাতে বৈশ্বিক প্রতিভার সমন্বয় ঘটে। টুর্নামেন্টের কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে প্রতিটি দল দুই ইনিংস খেলে ফলাফল নির্ধারণ করা যায় এবং খেলার কৌশলগত দিকও বজায় থাকে।
টেস্ট টোয়েন্টি শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক তারকাদের মঞ্চ নয়, বরং এটি তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের জন্যও এক নতুন সুযোগ তৈরি করছে। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের জন্য চালু হচ্ছে ‘জুনিয়র টেস্ট টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ’, যেখানে তারা নিজেদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রদর্শন করতে পারবে। অংশগ্রহণকারী তরুণদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া হয় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ। ইতোমধ্যে ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে নিবন্ধন প্রক্রিয়া, যা বিশ্বজুড়ে তরুণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে।
এই নতুন ফরম্যাটের পরামর্শক বোর্ডে রয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি চার তারকা—এবি ডি ভিলিয়ার্স, স্যার ক্লাইভ লয়েড, ম্যাথিউ হ্যাডেন এবং হারভজন সিং। এবি ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “এটি খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য নতুন স্বপ্নের সূচনা।” স্যার ক্লাইভ লয়েডের মতে, “এই ফরম্যাট ক্রিকেটের শিল্প ও রিদমকে নতুনভাবে জীবন্ত করে তুলেছে।” ম্যাথিউ হ্যাডেন মনে করেন, “এটি পুরনো ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করছে।” আর হারভজন সিং বলেন, “ক্রিকেটের নতুন হৃদস্পন্দন প্রয়োজন ছিল—টেস্ট টোয়েন্টি ঠিক তাই করছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টেস্ট টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। এখানে টেস্টের কৌশল, ওয়ানডের পরিকল্পনা এবং টি–টোয়েন্টির গতি একসঙ্গে মিলবে। এর ফলে খেলা যেমন হবে সংক্ষিপ্ত ও দর্শকনির্ভর, তেমনি খেলোয়াড়রাও পাবে নিজেদের কৌশলগত ও মানসিক সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ। ক্রিকেটের ইতিহাসে এই নতুন অধ্যায় ভবিষ্যতের খেলাকে আরও প্রাণবন্ত ও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
