• মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ | ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়ায় কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ!

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়ায় কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৩৯ ৩০ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ গাওয়াকে দেশদ্রোহের শামিল বলে মন্তব্য করে ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন এবং পুলিশকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার আসামের করিমগঞ্জ জেলার শ্রীভূমি শহরে কংগ্রেস সেবাদলের এক বৈঠকে। ওই সভায় স্থানীয় এক নেতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গান ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ পরিবেশন করেন, যা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।

১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা প্রথম পোস্ট করেন আসামের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অশোক সিংঘল। তিনি অভিযোগ করেন, “কংগ্রেস সভায় সেই দেশের জাতীয় সংগীত গাওয়া হচ্ছে, যারা উত্তর-পূর্ব ভারতকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়।”

অশোক সিংঘলের দাবি, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করছে এবং অনুপ্রবেশকারীদের মদদ দিয়ে আসামের জনবিন্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, “কংগ্রেস বৃহত্তর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাইছে।”

এই বক্তব্যের পর বিজেপি নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। পরদিন মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে হিমন্ত বলেন, “বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়া ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ। কংগ্রেসের সভা ভারতের নয়, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত দিয়ে শুরু হওয়া আমাদের জাতীয় মর্যাদার অপমান।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কংগ্রেসের ওই নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা রুজু করা হয়। তাঁরা শিগগিরই গ্রেপ্তার হবেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কংগ্রেসের সমালোচনা শুরু করেছে। দলটির পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে, “কংগ্রেস বাংলাদেশের মোহে আচ্ছন্ন। মাত্র কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ যে মানচিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করেছে, এখন সেই বাংলাদেশ নিয়েই কংগ্রেস গর্ব করছে।”

তবে এই ঘটনার পর কংগ্রেস সরাসরি পাল্টা জবাব দিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি, যা বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও আবেগের প্রতীক। বিজেপি সব সময় বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালিদের প্রতি অপমানজনক মনোভাব পোষণ করে।”

তিনি আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গানটি কোনো বিদেশি সংস্কৃতি নয়, বরং এটি ভারতীয় সাহিত্য ও বাঙালি গৌরবের অংশ। বিজেপি রবীন্দ্রনাথের দর্শন বোঝে না, বাঙালির ইতিহাস জানে না, কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে বাঙালিদের ব্যবহার করে।”

গৌরব গগৈয়ের অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ দিচ্ছে, যাতে জ্বলন্ত সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি ঘোরানো যায়।

উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি রচনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই গানটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনাকে ঘিরে আসামজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি যেখানে দেশদ্রোহের অভিযোগ তুলছে, সেখানে কংগ্রেস একে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রকাশ বলে দাবি করছে। আসাম রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে এই গানকে ঘিরে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/