• মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ | ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সানাই তাকাইচি

জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সানাই তাকাইচি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:০০ ২১ অক্টোবর ২০২৫

জাপান ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থী নেতা সানাই তাকাইচি জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিবিসি এবং রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর মঙ্গলবার উচ্চকক্ষের ভোটেও তিনি বিজয়ী হয়েছেন।

উচ্চকক্ষের ভোটের পর তাকাইচি ১২৫টি ভোট পেয়েছেন, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের চেয়ে এক ভোট বেশি। এর আগে, নিম্নকক্ষে তিনি ২৩৭টি ভোট পেয়েছিলেন, যা প্রয়োজনীয় ২৩৩টির চেয়ে বেশি। এই বিজয় নিশ্চিত করেছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী পদে তার আগমন প্রায় নিশ্চিত।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকাইচির এই বিজয় জাপানের রাজনীতিতে “কাঁচের দেয়াল” ভাঙার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে এখনও পুরুষরা প্রধানত ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করে।

তাকাইচির নির্বাচনে জয়ের পেছনে তার লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ও ডানপন্থী জাপান ইনোভেশন পার্টির সাথে জোট চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহযোগী সাতসুকি কাটায়ামাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে, যার ফলে তিনি জাপানের প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী হবেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচির দায়িত্ব মোটেই সহজ হবে না। তাকে মোকাবিলা করতে হবে মন্দা অর্থনীতি, মার্কিন-জাপানের জটিল সম্পর্ক, এবং অভ্যন্তরীণ দলীয় দ্বন্দ্ব।

কে এই সানাই তাকাইচি?

সানাই তাকাইচি ১৯৬১ সালে নারায়, জাপানে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন বেসরকারি চাকুরে এবং মা ছিলেন পুলিশ অফিসার। পূর্বজীবনে তিনি হেভি মেটাল ব্যান্ডে ড্রামার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য বিরোধের সময় রাজনীতিতে তার আগ্রহ জন্ম নেয়।

তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে মোট ১০ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং মাত্র একবার পরাজিত হয়েছেন। ধীরে ধীরে তিনি এলডিপির একজন স্পষ্টভাষী রক্ষণশীল নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

সানাই তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী পদে আগমন কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি জাপানের রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/