• মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ | ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিসরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে

মিসরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:২৮ ৮ অক্টোবর ২০২৫

মিসরের জনপ্রিয় পর্যটন শহর শারম-আল-শেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের পরোক্ষ আলোচনা। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা গাজায় চলমান যুদ্ধের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনেই অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর তাৎপর্য ছিল বিশেষ। এই বৈঠকে হামাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—গাজায় যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং দখলদার ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে।

হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। হামাসের দাবি, এই পরিকল্পনার আওতায় গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দিতে হবে।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “গাজা ইস্যুতে চুক্তি হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আরও জানান, “বর্তমান আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।”

আজ বুধবার মিসরে আলোচনার তৃতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের শীর্ষ কূটনীতিকরা যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা ফাওজি বারহুম বলেন, “আমরা যুদ্ধের অবসান চাই। গাজা থেকে দখলদার সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারই আমাদের প্রথম ও প্রধান দাবি।” তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি স্পষ্ট নয়। বরং পরিকল্পনায় বলা হয়েছে—হামাস তাদের হাতে থাকা ৪৮ ইসরায়েলি বন্দী মুক্তি দিলে তবেই ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বন্দীদের মধ্যে অন্তত ২০ জন এখনো জীবিত।

মিসরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, হামাসের শীর্ষ আলোচক খলিল আল-হায়া আলোচনার পর বলেন, “আমরা দখলদার ইসরায়েলকে এক সেকেন্ডের জন্যও বিশ্বাস করি না। যুদ্ধ শেষ হলে তা যেন আর কখনো শুরু না হয়, আমরা সেই নিশ্চয়তা চাই।”

এদিকে, আলোচনার মাঝেই গাজা উপত্যকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। ফিলিস্তিনি সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’র তথ্যমতে, মঙ্গলবারের হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বানের পরও ইসরায়েলি বাহিনী থামেনি। কেবল গত চার দিনে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১০৪ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ জোট এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা “সব উপায়ে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে” এবং ফিলিস্তিনিদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। এই বিবৃতি মূলত ট্রাম্পের পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তারই প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে হামাসের দৃঢ় অবস্থান ও ইসরায়েলের অনমনীয় নীতি—দুই পক্ষের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথকে এখনও কঠিন করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/