ইবিতে আবাসন সুবিধা নেই ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর


প্রকাশিত: ০৫:৫১ ২৯ নভেম্বর ২০২৫
রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে যাত্রা শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বাংলাদেশ। ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কুষ্টিয়ার শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছর পেরিয়ে ৪৭-এ পদার্পণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ এ পথচলায় প্রাপ্তির খাতায় যেমন যুক্ত হয়েছে নানা অর্জন, তেমনি রয়েছে নানা সংকট ও অপ্রাপ্তি। ক্যাম্পাস সূত্রে, ১৯৭৬ সালের ১লা ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। পরে ১৯৭৭ সালের ২৭ জানুয়ারি সাত সদস্যবিশিষ্ট 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা কমিটি গঠন করা হয়। একই বছরের ৩১ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল মক্কায় ওআইসি'র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামী শিক্ষা সম্মেলনে এশিয়ার তিনটি মুসলমান রাষ্ট্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হয়। শুরুতে দুইটি অনুষদের অধীনে চার বিভাগে ৩০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯টি অনুষদের ৩৬টি বিভাগে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৯৭ জন, যাদের ১২ হাজার ৩১২ ছাত্র ও ৭ হাজার ৫৮৫ জন ছাত্রী। মোট অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ জন, যাদের ১৫ জন ছাত্র ও ছাত্রী ৩ জন। এ পর্যন্ত ২৮ জন বিদেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন পর্যায়ের ডিগ্রি প্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়া ৪১১ জন শিক্ষক, ৫০৩ জন কর্মকর্তা, ৮০ জন সহায়ক কর্মচারী এবং ১৪২ জন সাধারণ কর্মচারী রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। ৭৪৯ জনকে পিএইচ.ডি এবং ৮৫৫ জনকে এম.ফিল ডিগ্রি প্রদান করেছে। এছাড়াও বর্তমানে ১২৫ জন পিএইচ.ডি এবং ১০২ জন এম.ফিল গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তবে অনুষদ, বিভাগ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। বৃদ্ধি পায়নি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সিকি ভাগ আবাসন ব্যবস্থাও অথচ প্রতিবছর মোট বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় করতে হয় পরিবহন খাতে।
জানা যায়, ৪৭ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছে আবাসন সুবিধার বাইরে। ছাত্রদের ৫টি ও ছাত্রীদের ৩টি হলে আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৩৫৫। বাকী প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেস, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরে নানামুখী সমস্যার মধ্যে অবস্থান করতে হয়। বর্তমানে দশতলা বিশিষ্ট ছেলেদের ২টি ও ১টি হলের এক্সটেনশন এবং মেয়েদের ২টি হলের কাজ চলমান থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত।
২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৫৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও ছয় বছরেও প্রকল্পের কাজ বাকি থাকে আরও ৪০ শতাংশ। ফলে তৃতীয় দফায় প্রশাসনের দুই বছর মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঞ্জুর হয়েছে দেড় বছর। মেগাপ্রকল্পের আওতায় আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনসহ ৯টি ১০ তলা ভবন এবং ১১টি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কাজের জন্য বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে নিজস্ব গাড়ি রয়েছে ৪৬টি। এর মধ্যে ৫২ আসনের নন এসি বাস ১৩টি, দ্বিতল বাস ১টি, ৩৬ আসনের এসি বাস ১টি, ৩০ আসনের এসি কোস্টার ৭টি, নন-এসি মিনিবাস ৫টি, হায়েচ এসি মাইক্রো ৫টি, জীপ ৭টি, কার ৩টি, পিক-আপ ২টি এবং অ্যাম্বুলেন্স ২টি। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ভাড়াকৃত ১৩টি দ্বিতল বাসসহ মোট ৩৩টি বাস-মিনিবাস রয়েছে।এছাড়া প্রতি ঘণ্টায় বাস সার্ভিস চালু ও ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য ৪টি ইলেকট্রিক কারের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিবহন সেবা পাচ্ছে না তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার অন্যতম অংশ গবেষণা। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণায় মাত্র ১.৬৩ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন’ এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে দেখভাল করা হয়ে থাকে। বিশ্বের ১০টি দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইবির শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (চুক্তি) স্বাক্ষরিত হলেও এর অধিকাংশই এখন পর্যন্ত যথাযথভাবে আলোর মুখ দেখেনি।
ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, 'ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও নানা কারণে তা লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে তার প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্যে ফেরাতে কাজ করছি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ছেলেদের একটি নতুন হল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের লাইনের বাস ভাড়া ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবহন পুলে
নতুন চারটি ভাড়াকৃত বিআরটিসি বাস ও ৪টি ইলেকট্রিক কার সংযুক্ত করেছি।
গবেষণার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দুর্বল সরকার ব্যবস্থার হওয়ার কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট খুব অপর্যাপ্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বাজেট মোট বাজেটের মাত্র আড়াই শতাংশ। তারপরও আমরা হান্টিং করার চেষ্টা করব, আমরা সোর্স তৈরি করব যাতে আমাদের এই রিসার্চ বাজেটটি অগ্রসর হয়।
বিজ্ঞাপন
- কাজের কথা বলে রাশিয়ায় বাংলাদেশিদের জোর করে যুদ্ধে প্রেরণ
- বিচ্ছেদের পর অতিরিক্ত মদ্যপান, ২৬ দিন রিহ্যাবে ছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল
- ইয়েমেনে তীব্র জ্বালানি সংকট: তাইজে খাবার পানির ঝুঁকিতে ১৬ লাখ শিশু
- আজ বিজয়া দশমী, প্রতিমা বিসর্জনে সাঙ্গ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব
- ফেসবুকে ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ কারা পাচ্ছেন, জেনে নিন যোগ্যতা ও শর্ত
- শাহরুখ থেকে সালমান, বলিউডের শীর্ষ তারকারা কে কোন ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান
- নাহিদের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ইশরাক হোসেন, বললেন এনসিপির ভবিষ্যৎ ‘জিরো’
- দল ছেড়ে শাস্তির মুখে রোনালদো, জরিমানার টাকা আয়ে লাগবে ৩৮ সেকেন্ড
- সুদানে একের পর এক ড্রোন হামলা, প্রাণহানি ছাড়াল ১৬০ যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে
- দুর্গাপূজায় তিন বিভাগ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শুরু রংপুরে
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আজ পৌঁছাচ্ছে বাংলাদেশে
- পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার
- ৮ মাস পর চালু, দুই দিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা
- জাতীয় দলের শিবির ছাড়ায় ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রোনালদো
- শেষ ম্যাচে গোল-অ্যাসিস্ট, সতীর্থদের ভালোবাসায় বিদায় মেসির
- সালাহউদ্দিনের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন হাসনাতের, চাইলেন স্বচ্ছ হিসাব
- মেসির বিদায়ে রোনালদোর আবেগঘন বার্তা, জানালেন ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা’
- অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
- সাভারের বনগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম শুরু
- বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে চোট, মাঠ ছাড়লেন হাশমতউল্লাহ