• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের খাবারে পাওয়া গেল কাঁকড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের খাবারে পাওয়া গেল কাঁকড়া

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৪৬ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ক্যানটিনগুলোর খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী মো. সাইদ মুন্সি পাশের মাস্টারদা সূর্য সেন হল ক্যানটিনে খেতে গিয়ে ভাত-তরকারির মধ্যে আস্ত একটি কাঁকড়া পান। ঘটনাটি দেখে তিনি বমি চেপে রাখতে পারেননি। এর আগেও একই হলে খাবারে মাছি ও পোকামাকড় পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুধু এই হল নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক হলের ক্যানটিনেই এমন নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, অব্যবস্থাপনা, নিম্নমানের উপকরণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নার কারণে তাঁরা দীর্ঘমেয়াদে অপুষ্টি ও বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছেন। বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান জানান, হলের খাবার খেয়ে তিনি দেড় মাস অসুস্থ ছিলেন। প্রায়ই খাবারে পোকামাকড় মেলে এবং ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের সবজি। অন্যদিকে ক্যানটিন ব্যবস্থাপকরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষার্থীদের সস্তায় মানসম্মত খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ক্যানটিনগুলোর রান্নাঘরে দেখা গেছে অস্বাস্থ্যকর ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। খোলা খাবারে মাছি বসছে, আর সেই খাবারই পরিবেশন করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অনেক জায়গায় শিশু শ্রমিকরা রান্না ও পরিবেশনের কাজে যুক্ত থাকলেও তাঁদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ধারণা নেই। অথচ প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ৭০ টাকা খরচ নেওয়া হয় একটি সাধারণ খাবারের জন্য। তবুও খাবারের মান নিম্নমানেরই থেকে যায়।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তুকি দিলে খাবারের মান উন্নত করা সম্ভব। তদারকির জন্য ক্যানটিনে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থী আনিকা তামজীদ বলেন, প্রতিদিন প্রায় একই ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়, যা খেতে শিক্ষার্থীদের অনীহা তৈরি করে। কখনো আবার গ্যাস না থাকার অজুহাতে রান্নাই করা হয় না।

এদিকে ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতারা শিক্ষার্থীদের এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন, সব অংশীজনকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান বের করা হবে। প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদও বলেন, ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশাসন দ্রুতই ক্যানটিনের খাবারের মানোন্নয়নে পদক্ষেপ নেবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, পার্শ্ববর্তী বুয়েট ক্যানটিনে মানসম্মত খাবার দেওয়া হয়। সেখানে খাবারের দাম কিছুটা বেশি হলেও তাঁরা মানিয়ে নিতে পারেন। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে কার্যকর পদক্ষেপ ও ভর্তুকির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারে। অন্যথায় নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের সমস্যায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দীর্ঘদিন চলতেই থাকবে।
 

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/