রাজধানীতে ১৫ মাসে ৪৭৯ হত্যা, প্রায় ৪০ শতাংশই রাজনৈতিক


প্রকাশিত: ১২:৩৯ ২৪ এপ্রিল ২০২৬
গত ১৫ মাসে রাজধানীতে সংঘটিত ৪৭৯টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১৯৩টি বা প্রায় ৪০ শতাংশের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ-এমন তথ্য জানিয়েছে Dhaka Metropolitan Police। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতা এখন নগরীর আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, রাজনৈতিক হত্যার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে ওয়ারী, গুলশান ও উত্তরা বিভাগ। আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিকে এসব হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ড এই প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। তেজগাঁও এলাকায় গুলিতে এক রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু কিংবা মধ্য বাড্ডায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে আরেক নেতাকে হত্যা-এ ধরনের ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হয়। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। তবে এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করছেন বিচারহীনতার সংস্কৃতি।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক বলেন, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্তেজনা এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এই সহিংসতার বড় কারণ। অনেক সময় সাধারণ হত্যাকাণ্ডকেও রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি হত্যার ঘটনা ঘটেছে ওয়ারী বিভাগে ১১০টি। এরপর মিরপুরে ৮০টি, তেজগাঁওয়ে ৬১টি, গুলশানে ৫৬টি, উত্তরা বিভাগে ৫৪টি, মতিঝিলে ৪৮টি, লালবাগে ৪২টি এবং রমনা বিভাগে ২৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
এদিকে, মোট ১৯৩টি রাজনৈতিক হত্যার মধ্যে ওয়ারীতেই ঘটেছে ৫৮টি, যা প্রায় ৩০ শতাংশ। গুলশানে ২৮টি এবং উত্তরা বিভাগে ২৬টি রাজনৈতিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
SN Md. Nazrul Islam বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডই কাম্য নয়। রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত অপরাধ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি এবং এতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজের নেতৃত্ব ও ধর্মীয় ব্যক্তিদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক Abdul Kaiyum মনে করেন, অপরাধ দমনে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে কঠোর নজরদারি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না করলে এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - অপরাধ ও শৃঙ্খলা
- হাজারবার প্রার্থনা করেছি যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়: শ্রুতি হাসান
- ‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করার মূল্য সরকারকে দিতে হবে’: শফিকুর রহমান
- পাঁচ ভেন্যুতে হবে এনসিএল ‘সেকেন্ড ইলেভেন’ চ্যাম্পিয়নশিপ
- ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: গালিবাফ
- অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে ৪ জন গ্রেপ্তার, অপরাধ স্বীকারের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ফুলবাড়ীতে ২৮ আঙুল নিয়ে কন্যাশিশুর জন্ম
- মোদির জন্মদিনে মুম্বাইয়ের ২০ স্কুল সংস্কারের উদ্যোগ আলিয়া-রণবীরের
- লং মার্চকে অযৌক্তিক বলেও সহযোগিতার আশ্বাস রাশেদ খানের
- সৌদি রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণ, জারি হয়েছিল বিমান হামলার সতর্কতা
- বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানে নজর রিয়াল-বার্সার
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- অকালে হারানো বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ মহানায়ক সালমান শাহ
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- ব্রাজিলের সঙ্গে খেললেই বদলাবে না বাংলাদেশের ফুটবল, বললেন আমিনুল
- দেশজুড়ে আরও পাঁচ দিন টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস
- শরীফুলের বোলিংয়ে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক
- বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ব্যাংকক নয়, যৌন পর্যটনের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে টোকিও




