চকরিয়ায় ঘুষ না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ, এসআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি


প্রকাশিত: ১১:৫৭ ৯ এপ্রিল ২০২৬
ঘুষের টাকা না পেয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ কয়েকজনকে মারধর ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রফিক (৪৫) বুধবার (৮ এপ্রিল) এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে Bangladesh Police-এর কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মধ্যম চর পাড়ায় বসতভিটার জমি নিয়ে রফিকের সঙ্গে স্থানীয় আবু তাহের গংদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। গত ৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআই ফারুক হোসেন কাজ বন্ধ করে দেন এবং ‘খরচ’ বাবদ ৩ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রফিকের দাবি, পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে এসআই ফারুক ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন।
অভিযোগে বলা হয়, ৭ এপ্রিল সকালে এসআই ফারুকের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ আবারও জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিকের পরিবার বাধা দেয়। এ সময় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিফা জন্নাতকে পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করা হয়। এছাড়া রফিকের স্ত্রী পিংকি আক্তার ও বোন শারমিন আক্তারকেও মারধর করা হয়। আহতরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
রফিক আরও জানান, ঘটনার পর তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০০ টাকার তিনটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
অন্তঃসত্ত্বা শিফা জন্নাত বলেন, “আমার ভাসুরকে কেন ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে এসআই ফারুক আমাকে তলপেটে লাথি মারেন, এতে আমি মাটিতে পড়ে যাই।”
তবে অভিযুক্ত এসআই ফারুক হোসেন ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় প্রতিপক্ষকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। রাগের মাথায় ‘একটি লাঠি মারা হয়েছে’ বলেও স্বীকার করেন তিনি।
মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিমেল হাসান জানান, ঘটনার সময় তিনি অফিসে ছিলেন না, তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজিদুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “অভিযোগটি গুরুতর—প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - অপরাধ ও শৃঙ্খলা
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: ছাত্ররাজনীতি থেকে জুলাই-পরবর্তী নতুন ধারার রাজনীতির মুখ
- মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রমের অভিযোগ, ২ আসামির স্বীকারোক্তি
- সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও অ্যাকশন দৃশ্যে দীপিকা
- সংস্কার ছাড়া চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ সম্ভব নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- যুক্তরাজ্যের বাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে চীনা গাড়ি, পেছনে রয়েছে যে কারণগুলো
- গোল্ডেন বুট এমবাপ্পের, গোল্ডেন বল স্পেনের রদ্রির, সিলভার বল পেলেন মেসি
- ইউক্রেন যুদ্ধে সহযোগিতার জন্য উত্তর কোরিয়াকে ধন্যবাদ পুতিনের
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে এসে আটক ৪, জাল পরীক্ষার্থী দিয়ে ভাইভা দেওয়ার অভিযোগ
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস: দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে
- ফেসবুকে সাময়িক বিভ্রাট, লগইন ও ব্যবহারে সমস্যা
- জনগণের প্রতিনিধি শামীম কায়সার লিংকনের জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা
- ডা. শফিকুর রহমান: জীবন, চিকিৎসা পেশা ও রাজনৈতিক পথচলা
- ত্রিশালে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার
- এক সময় ঘুমাতেন রাস্তায়, আজ বিশ্বকাপের নায়ক
- সৌদিতে শুটিংয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করলেন হলিউড অভিনেতা জিয়ানকার্লো এসপোসিতো
- জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর, আনন্দে জাতীয় ছুটি ঘোষণা
- ধাপে ধাপে হবে স্থানীয় সরকার ভোট, শেষ হতে পারে ২০২৭ সালে
- ১ জুলাই থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা কিউআর পেমেন্ট
- মেসিকে বিশ্বসেরা মানলেও ইয়ামালের আদর্শ নেইমার
- তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ




