• বুধবার , ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ২৫ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিমুলতলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, হয়রানির অভিযোগে ক্ষোভ

শিমুলতলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, হয়রানির অভিযোগে ক্ষোভ

আনিসুর রহমান: সাভার প্রতিনিধি
আনিসুর রহমান: সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬:৫৪ ৭ এপ্রিল ২০২৬

সাভারের শিমুলতলা জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ সংযোগ, মিটার স্থাপনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অফিসের ওয়ান পয়েন্ট সার্ভিস থেকে শুরু করে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ও ইন্সপেক্টরের কক্ষ পর্যন্ত প্রায় সর্বত্র দালালদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কক্ষেও তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা।

জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, আল আমিন নামে এক ব্যক্তি স্বাচ্ছন্দ্যে বসে কাজ করছেন। প্রথমে নিজেকে কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও পরে তিনি ‘কনসালটেন্ট’ হিসেবে কাজ করার কথা জানান। অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিনি কোনো সরকারি কর্মকর্তা নন; তবে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে থেকে বিভিন্ন কাজে যুক্ত আছেন। অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে বিভিন্ন কাজ করে দেন এবং স্ট্যাকিং শিট তৈরির ক্ষেত্রেও অনিয়মে জড়িত।

অন্যদিকে, ইন্সপেক্টরের কক্ষে সাইদুল ইসলাম নামে এক তালিকাভুক্ত ইলেকট্রিশিয়ানের উপস্থিতি দেখা যায়, যিনি ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পরিদর্শনের সময় প্রভাব খাটান এবং অনেক ক্ষেত্রে তার মতামতের ওপরই সংযোগ অনুমোদন নির্ভর করে। এমনকি আবেদন বাতিলের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

এছাড়া তালিকাভুক্ত ইলেকট্রিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তারা ওয়ারিং রিপোর্ট দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন। নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে কাজ ছাড়াই শুধু রিপোর্ট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

এক ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের নির্দিষ্ট কিছু ইলেকট্রিশিয়ানের কাছ থেকেই রিপোর্ট নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?” তিনি আরও বলেন, দক্ষ প্রকৌশলীদের দিয়ে কাজ করানোর সুযোগ না থাকায় গ্রাহকরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।

এ বিষয়ে শিমুলতলা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে গ্রাহকদের দাবি, দালাল চক্রের এই অনিয়ম দ্রুত বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় সেবার নামে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/