• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদির হত্যার মূল মাস্টারমাইন্ড কে এই বাপ্পী?

ওসমান হাদির হত্যার মূল মাস্টারমাইন্ড কে এই বাপ্পী?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:২১ ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার পল্লবী ও মিরপুর এলাকার প্রভাবশালী সাবেক কাউন্সিলর ও পল্লবী থানা যুবলীগের নেতা তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে ডিবি পুলিশ চিহ্নিত করেছে। ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে তাকে সরাসরি হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাপ্পী দীর্ঘদিন ধরে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় সংগঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর তার শক্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল। এক সময় তাকে ‘ঝুট বাপ্পি’ বলা হতো; বর্তমানে অনেকে ‘পল্লবীর জমিদার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তার বিরুদ্ধে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, জমি ও দোকান জবরদখল, ফুটপাত-সড়কে অবৈধ বাজার বসানো এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। ২০২২ সালে মিরপুর ও রূপনগর এলাকার বাসিন্দারা সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছিলেন। ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এসব অভিযোগের পেছনের প্রেক্ষাপটও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ডিবি পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে হাদির ধারাবাহিক আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান এবং কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তাকে টার্গেট করা হয়। বাপ্পীর নির্দেশে ফয়সাল করিম মাসুদসহ একটি কিলার গ্রুপ হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। ঘটনাটি ঘটে ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায়, গুরুতর আহত হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। আলোচিত এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে; তাদের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার, কয়েকজন এখনো পলাতক।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/