• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল এখন দুবাইতে, ভিডিও বার্তা ঘিরে কৌতূহল!

হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল এখন দুবাইতে, ভিডিও বার্তা ঘিরে কৌতূহল!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৩২ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত নিজের অবস্থান ও দাবিসমূহ তুলে ধরেন, তবে এ দাবির সত্যতা নিয়ে জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট ভিডিওটি যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি নয়। ভিডিওতে ফয়সালের চেহারা, মুখভঙ্গি এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য তার বাস্তব পরিচয়ের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ বিশ্লেষণ এবং চারটি নির্ভরযোগ্য এআই যাচাই টুল ব্যবহার করে ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভিডিওতে ফয়সাল দাবি করেছেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, শুধু ভিডিওর ভিত্তিতে তার ভৌগোলিক অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফয়সাল কোনো প্রামাণ্য তথ্য যেমন লোকেশন ডেটা বা পাসপোর্ট সিল উপস্থাপন করেননি।

ভিডিওতে ফয়সাল আরও দাবি করেছেন, হাদিকে হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। তবে দ্য ডিসেন্ট এ দাবিকে মিথ্যা বলে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ ও তদন্ত সংক্রান্ত সূত্র অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে গুলি চালিয়েছিলেন ফয়সাল করিম, চালকের আসনে ছিলেন তার সহযোগী আলমগীর শেখ।

ফয়সাল আরও অভিযোগ করেছেন, ওসমান হাদি তাকে মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অগ্রিম ৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। তবে তদন্তে এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। হাদি জীবিত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্যের কোনো অভিযোগ ছিল না।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৫ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর ডিএমপি জানিয়েছে, আসামিরা ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/