• বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘লাশবাহী স্পিডবোট চালু হচ্ছে’-ফেসবুক পোস্টের একদিন পরেই তার লাশে সেই যাত্রা শুরু

‘লাশবাহী স্পিডবোট চালু হচ্ছে’-ফেসবুক পোস্টের একদিন পরেই তার লাশে সেই যাত্রা শুরু

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৩৩ ১৯ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মানুষদের জন্য ছিল এটি এক অদ্ভুত কাকতালীয় শোকের সংবাদ। ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো প্রবাসী মোহাম্মদ আমীন কিছুদিন আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছিলেন—“সন্দ্বীপে লাশবাহী স্পিডবোট চালু হচ্ছে, এখন প্রবাসীদের লাশ দ্রুত বাড়ি পৌঁছানো যাবে।” কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—মাত্র এক দিন পরেই সেই লাশবাহী স্পিডবোটেই ফিরলেন তিনি নিজেই, নিথর দেহে।

শনিবার রাতে ওমান থেকে আনা হয় সাত প্রবাসীর মরদেহ। আজ রবিবার সকালে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের কুমিরা ঘাটে নামানো হয় তাঁদের লাশ। সকাল আটটার দিকে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। জানাজা শেষে তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত মোহাম্মদ আমীন (৩৮) সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলী কব্বরের ছেলে। তিনি ওমানে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং অন্য ছয়জন প্রবাসী তাঁর অধীনে কাজ করতেন। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগে ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন সন্দ্বীপে লাশবাহী স্পিডবোট চালুর খবরটি, যা তখন অনেকে আনন্দের সংবাদ হিসেবে দেখেছিলেন।

আলী কব্বর জানান, “ছেলে আমীন কিছুদিন পর দেশে ফিরে বড় মেয়ের বিয়ের আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু এখন সে-ই নেই।” পরিবারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেলেন আমীন।

দুর্ঘটনায় নিহত অন্য প্রবাসীরা হলেন—মো. সাহাবুদ্দিন (২৮), মো. বাবলু (২৮), মো. রকি (২৭), মো. আরজু (২৬), মো. জুয়েল (২৮) ও মোশারফ হোসেন (২৬)। তাঁরা সবাই ওমানের ধুকুম প্রদেশের সিদরা এলাকায় মাছ ধরার কাজে ছিলেন। গত ৮ অক্টোবর তাঁদের বহনকারী গাড়িটি মুখোমুখি সংঘর্ষে পতিত হলে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।

নিহত সাহাবুদ্দিনের পরিবারে স্ত্রী, মা–বাবা ও চার মাস বয়সী এক কন্যা রয়েছে। তাঁর ফেসবুক পেজে কিছুদিন আগেই একটি স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন—“মধ্যবিত্ত মানে হাজারটা স্বপ্ন, কিন্তু দিন শেষে ভাগ্যের খাতাটা শূন্য।” তাঁর এই লেখাই এখন পরিবার ও বন্ধুদের মনে গভীর বেদনার দাগ রেখে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনই আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবার থেকে আসা। ভাঙা টিনের ঘরই ছিল তাঁদের একমাত্র সম্বল। এর মধ্যে পাঁচজনেরই সন্তান জন্মেছে মাত্র কয়েক মাস আগে।

সন্দ্বীপের মানুষ এখন বলছেন—প্রবাসীদের কষ্ট ও ঝুঁকির এই গল্প যেন আর না ফিরে আসে। লাশবাহী স্পিডবোট চালুর আনন্দ যে এমন এক শোকে রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/