• শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাত কলেজে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে দ্বিমত: মাঠে নামলেন শিক্ষার্থীরা

সাত কলেজে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে দ্বিমত: মাঠে নামলেন শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৪০ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের উদ্যোগ ঘিরে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন। অন্যদিকে একই দিনে কলেজ অক্ষুণ্ন রাখার দাবিতে ঢাকা কলেজের একাংশ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীও বিক্ষোভ করেছেন। ফলে বিষয়টি এখন এক ধরনের ত্রিমুখী অবস্থায় দাঁড়িয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয় করার পক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা, প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরোধী শিক্ষকরা এবং কলেজ অক্ষুণ্ন রাখার দাবিতে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আগামী সোমবারের মধ্যে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি সংক্রান্ত স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে তাঁরা আরও বড় কর্মসূচি দেবেন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান বলেন, “অধ্যাদেশ করতে কত সময় লাগবে সেটা সোমবারের মধ্যেই জানাতে হবে। না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিমুখে বড় কর্মসূচি হতে পারে।”

শিক্ষার্থীরা এদিন অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে কিছু বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

অন্যদিকে বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাত কলেজের কয়েক শ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সামনে মানববন্ধন করে প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে, শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ কমে যাবে এবং শিক্ষকদের পদ-পদবি নিয়ে জটিলতা দেখা দেবে।

ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে নারীশিক্ষা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষকদের প্রস্তাব, সাত কলেজের জন্য আলাদা ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যেতে পারে, তবে কলেজগুলো যেন অধিভুক্ত থাকে—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কাঠামোয়। নাম ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ হলেও তাঁদের আপত্তি নেই।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছেন ঢাকা কলেজের একাংশ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী। তাঁদের দাবি, কলেজ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এ কারণে একই দিনে একই ক্যাম্পাসে দুটি বিপরীত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাত কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্কুল অব সায়েন্স: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ

স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিস: সরকারি বাঙলা কলেজ

স্কুল অব বিজনেস: সরকারি তিতুমীর কলেজ

স্কুল অব ল অ্যান্ড জাস্টিস: কবি নজরুল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ৪০% ক্লাস অনলাইনে এবং ৬০% ক্লাস সশরীরে হবে। তবে সব পরীক্ষা সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকার সাতটি কলেজ—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ—একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ২০১৭ সালে সেগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। পরে নানা জটিলতা ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এ বছর সরকার নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেয়।

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় করার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি কাজ করছে। তাঁর প্রস্তাব, ইডেন মহিলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পুনরায় চালু করা হোক এবং শিক্ষকদের পদ-পদবি অক্ষুণ্ন রেখে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/