• শুক্রবার , ০১ মে, ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড় জয়ের টার্গেটে জামায়াত: ভোটকেন্দ্র পাহারায় নিচ্ছে বিশেষ পরিকল্পনা

বড় জয়ের টার্গেটে জামায়াত: ভোটকেন্দ্র পাহারায় নিচ্ছে বিশেষ পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩:১০ ১৬ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জুলাই বিপ্লবের পর দলটি যেন নতুন উদ্যমে রাজনীতির ময়দানে ফিরে এসেছে। দীর্ঘ সময়ের দমন-নিপীড়ন ও নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে সংগঠন পুনর্গঠনে জামায়াত এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংগঠিত, কৌশলী ও আত্মবিশ্বাসী— এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত বড় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। দলটির মূল কৌশল তিনটি— ইনক্লুসিভ প্রার্থী নির্বাচন, ইসলামি ও দেশপ্রেমিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা, এবং সরকার গঠনের পূর্ণ প্রস্তুতি।

জামায়াত এবার প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন ধারা আনছে। রাজনৈতিক আনুগত্যের পাশাপাশি প্রার্থীর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, সততা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যোগ্য মনে হলে অমুসলিম প্রার্থীও মনোনয়ন পেতে পারেন। দলটির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “আমরা এমন সংসদ চাই যেখানে দক্ষ, শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক মানুষ থাকবে। এজন্য সবাইকে ধারণ করেই নির্বাচনে যেতে চাই।”

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার “MORE NEWS BD”-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “সব ইসলামি ও দেশপ্রেমিক দলের সঙ্গে আমাদের ঐক্য প্রক্রিয়া চলছে। ঐক্যের স্বার্থে আমরা সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও প্রস্তুত।” সূত্র মতে, ইসলামি ভোট বিভক্তি ঠেকাতে জামায়াত কিছু আসনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

জামায়াত শুধু নির্বাচনের প্রস্তুতিতেই নয়, সুষ্ঠু ভোটের দাবিতেও রাজপথে সক্রিয়। তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি, প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি চালু, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ। দলের শীর্ষ নেতা বলেন, “আমরা চাই জনগণের ভোটে সরকার গঠিত হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য।”

তবে ঐক্যের পথে জামায়াত কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। হেফাজতের একাংশ ও কিছু কওমি ধারার দল আকিদাগত পার্থক্য দেখিয়ে এখনো অনীহা প্রকাশ করছে। অন্যদিকে বিএনপি ইসলামি ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে নানা কৌশল নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “এই বিভাজন কাটিয়ে উঠতে পারলেই জামায়াত নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।”

দলটি এবার ভোটকেন্দ্র পাহারায় বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। সারা দেশে পুরুষ ও নারী উভয় পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভোট কারচুপি ঠেকানো যায়। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এক গণসংযোগে বলেন, “ভোট যেন সুষ্ঠু হয়— আমরা সেটাই চাই। কিন্তু কেউ যদি ভোট ডাকাতির চেষ্টা করে, জনগণ তাকে রুখে দেবে।”

এদিকে জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, “জনগণ যদি আমাদের পক্ষে রায় দেয়, আল্লাহর রহমতে রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ণ প্রস্তুতি আমাদের আছে। ন্যায়বিচার, স্বচ্ছ ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনগণের সেবাই হবে আমাদের অঙ্গীকার।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের ইনক্লুসিভ প্রার্থী ও ঐক্যকেন্দ্রিক কৌশল দেশের রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তবে তারা সতর্ক করেছেন— নির্বাচনি প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তবে সংগঠনশক্তি থাকা সত্ত্বেও জামায়াতের জয়ের পথে বড় বাধা আসতে পারে।

সব মিলিয়ে জুলাই বিপ্লবের পর জামায়াতে ইসলামী এখন এক নতুন রূপে নির্বাচনের ময়দানে নামছে। ইনক্লুসিভ প্রার্থী বাছাই, ইসলামি ঐক্য ও আসন সমঝোতা, ভোটকেন্দ্র পাহারা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্দোলন— সব মিলিয়ে দলটির লক্ষ্য একটাই: জনরায়ের মাধ্যমে সরকার গঠন ও ইসলামি রাজনীতির পুনর্জাগরণ।
 

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/