• সোমবার , ১২ অক্টোবর, ২০২৬ | ২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ল চালের দাম, ডিম-মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই

কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ল চালের দাম, ডিম-মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৫২ ১২ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বাজারে নতুন করে বেড়েছে চালের দাম। এক থেকে দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন ও খোলা সয়াবিন তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম আগের মতোই চড়া থাকায় বাড়তি চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও আগারগাঁওয়ের তালতলা বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি মিল পর্যায়ে চালের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। তবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির তুলনায় পাইকারি বাজারে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা।
কোন চালের দাম কত বেড়েছে?
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্র্যান্ডভেদে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৪ থেকে ৭৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এসব চালের দাম ছিল প্রায় ৭২ টাকা।

এ ছাড়া রশিদ ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল কেজি ৬৫ টাকা এবং মোজাম্মেল মিনিকেট ৭৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মান অনুযায়ী সরু নাজিরশাইল চালের দাম দাঁড়িয়েছে ৭০ থেকে ৯৫ টাকা। এই চালের দামও কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি মানের পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৩ টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় পৌঁছেছে।
তবে মোটা চালের বাজারে এখনো বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি মোটা চাল আগের মতো ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের দাম বাড়ার পেছনে কী কারণ?
চালের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পরিবহন ব্যয় ও মিল পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।

তাঁদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর প্রতি ট্রিপে ট্রাকভাড়া ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ধান সংগ্রহ, মিলে পৌঁছানো এবং আড়তে সরবরাহের জন্য একাধিকবার পরিবহনের প্রয়োজন হওয়ায় চালের মোট খরচ বাড়ছে।
অন্যদিকে নওগাঁসহ বিভিন্ন মোকামে ধানের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাবে মিল মালিকেরা ৫০ কেজির প্রতি বস্তা কাটারি চালের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়েছেন।
তবে খুচরা বিক্রেতাদের একাংশের অভিযোগ, বাজারে যথাযথ তদারকি না থাকায় কিছু পাইকারি ব্যবসায়ী পরিবহন খরচ বৃদ্ধির চেয়েও বেশি হারে চালের দাম বাড়াচ্ছেন।
পেঁয়াজ-রসুন ও সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে
শুধু চাল নয়, রান্নার প্রয়োজনীয় আরও কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে রাজধানীর বাজারে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। রসুনের দাম বেড়েছে আরও বেশি। প্রতি কেজিতে নতুন করে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে সংকটের কথা বলছেন বিক্রেতারা। এই পরিস্থিতিতে গত দুই সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে।
ডিম-মুরগির বাজারে উচ্চমূল্য অব্যাহত
চালের পাশাপাশি আমিষের বাজারেও স্বস্তি ফিরছে না। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।
অন্যদিকে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। আগের তুলনায় নতুন করে বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও পণ্য দুটি চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।
চাল, পেঁয়াজ, রসুন ও ভোজ্যতেলের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। বিশেষ করে একই সময়ে একাধিক নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের মাসিক বাজারের বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন