• মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজি সংকটে ভোগান্তি, ১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি ২,২০০ টাকায়

এলপিজি সংকটে ভোগান্তি, ১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি ২,২০০ টাকায়

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৩ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সংকট ও বাড়তি দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। সেপ্টেম্বরের জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। কোথাও বাড়তি টাকা দিয়েও তাৎক্ষণিকভাবে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

এই হিসাবে প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪১৫ থেকে ৬১৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। সরবরাহ পেতে কোনো কোনো গ্রাহককে এক থেকে দুই দিন আগে অর্ডার করতে হচ্ছে। তবে আমদানিকারক ও অপারেটররা জ্বালানিমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, দেশে এলপিজির মজুদ ও জোগানে কোনো সংকট নেই।
বেশি দাম দিয়েও অপেক্ষায় গ্রাহক
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ও রামপুরার আবু জাফর জানান, গত বৃহস্পতিবার তাঁরা ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ১০০ টাকায়। স্থানীয় বিক্রেতাদের কাছে চাওয়ার দুই দিন পর সিলিন্ডার পান তাঁরা। এই সময়ে দুই পরিবারের রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে ভোগান্তি হয়।

গত ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু সেই কমতির সুবিধা পাচ্ছেন না এসব এলাকার ক্রেতারা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ টন। ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৮০ শতাংশ বাসাবাড়ির রান্নায় লাগে। ফলে বাড়তি দামের চাপ সরাসরি পরিবারের দৈনন্দিন খরচে পড়ছে।

আমদানিতে অনিশ্চয়তা, ধীরে বিক্রির অভিযোগ
একাধিক অপারেটর ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তার ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহকারীদের কেউ কেউ আগের মতো কার্গো দিতে পারছেন না। খোলাবাজার থেকে এলপিজি সংগ্রহও কঠিন হয়েছে; বেড়েছে জাহাজভাড়া ও পরিবহন খরচ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত এসেছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন। তবে একটি পূর্ণ মাসের সঙ্গে ২২ দিনের হিসাব তুলনা করে সেপ্টেম্বরের মোট আমদানি কমেছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
আগস্টে ১৩টি প্রতিষ্ঠান আমদানি করলেও সেপ্টেম্বরের আলোচ্য সময়ে করেছে ৯টি। অক্টোবরেও আমদানি ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলপিজি অপারেটরদের সংগঠনের এক সদস্যের দাবি, বিদ্যমান আমদানির হিসাবে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। ভবিষ্যৎ আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তায় কেউ কেউ মজুদ ধরে রেখে ধীরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এতে সরবরাহ সীমিত হচ্ছে এবং বেশি দাম নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ওই সদস্য আরও বলেন, কার্গো সংগ্রহ ও পরিবহনের বাড়তি ব্যয় নির্ধারিত দামে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। অন্যদিকে খুচরা বাজারেও বিইআরসির দাম মানা হচ্ছে না।
সংকট নেই দাবি অপারেটরদের, নজরদারির নির্দেশ
বিইআরসির হিসাবে, এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে ৫২টি প্রতিষ্ঠানের। আমদানির সক্ষমতা আছে ২৩টির; নিয়মিত আমদানি করে ৯টি প্রতিষ্ঠান। ফলে কয়েকটি কার্গো আসতে দেরি হলে বাজারে সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হয়।
সরকারি উদ্যোগে সরবরাহ বাড়ানোর প্রক্রিয়াও এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে সরাসরি আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর সরবরাহকারী খোঁজার একাধিক উদ্যোগে সাড়া মেলেনি। পরে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টন এলপিজি সরবরাহের কাজ দেওয়া হলেও তা পৌঁছানোর সময় নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে অপারেটররা মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি ভালো থাকার দাবি করেন। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে ঘাটতি এবং মজুদদারির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ ঠেকাতে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। অপারেটররা এ কাজে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

বিজ্ঞাপন