• রবিবার , ১৫ মার্চ, ২০২৬ | ১ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৯ বছর পর বেরিয়ে এলো সত্য: সালমান শাহকে করা হয়েছে হত্যা, পোস্টমর্টেমে কেটে ফেলা হয়েছে অঙ্গ

২৯ বছর পর বেরিয়ে এলো সত্য: সালমান শাহকে করা হয়েছে হত্যা, পোস্টমর্টেমে কেটে ফেলা হয়েছে অঙ্গ

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:১২ ২৩ অক্টোবর ২০২৫

২৯ বছর আগের চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে রূপান্তর করার নির্দেশ নাড়ালো দীর্ঘদিনের পরিবারীয় লড়াই। সোমবার আদালতের নির্দেশের পর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী দেশের একটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের সামনে বসে এক অনুশোচনাপূর্ণ সাক্ষাৎকারে ঘটনার নানা দিক উন্মোচন করেছেন। সাক্ষাৎকারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বুধবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশ করা হয়েছে—যেগুলো নীলা চৌধুরীর কণ্ঠ থেকে সরাসরি পাওয়া অভিযোগ ও স্মৃতিচারণভিত্তিক।

নীলা চৌধুরী বলেন, “আদালত যখন রায় পড়ল, আমার মনে হলো আমি আরেকবার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি। ২৯ বছর ধরে আমি লড়েছি—বলেছিলো মৃত্যু, কিন্তু আজ আদালত বলছে, আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে।” তিনি আদালতের রায়ে উল্লেখ করা কিছু আলামতও উল্লসিতভাবে স্মরণ করেন; সেই অনুসারে ঘটনাস্থলে সিরিঞ্জ পাওয়া গেছে এবং ওই সিরিঞ্জগুলো ব্যবহার করা ছিল বলে রায়ে বলা হয়েছে—যা মৃত্যু ঘটাতে সক্ষম এমন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়, তার দাবি।

সাক্ষাৎকারে নীলা আরও বলেন, ঘটনার পরপরই পরিবারের সঙ্গে আচরণ ও পুলিশি পদক্ষেপকে তারা অসহযোগী ও অনৈতিহাসিক মনে করেছেন। “আমাদের সম্মতি ছাড়া সালমানকে হাসপাতালে নেওয়া, পোস্টমর্টেমের নামে কাজ করা এবং পরে যে ডিভাইস বা ‘পার্টস’ কাটা হয়েছে—এগুলো আমরা কখনও অনুমোদন করিনি,” তিনি বলেন এবং দাবি করেন এসব তথ্য বহুবার বিভিন্ন ফোরামে উত্থাপন করেছেন।

নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও নীলার স্মৃতিচারণে ঘটনার প্রথম মুহূর্তগুলো ছবি তুলে ধরেছে—বৃহৎ টানাপোড়েন, অচেনা ব্যক্তির উপস্থিতি, ও সালমানের অবশ অবস্থায় লিফট ও রুমবার্তা নিয়ে তার উদ্বেগের বর্ণনা। তিনি বলেছেন, “ঘরে ঢুকলে দেখি এক অচেনা পুরুষ কোণে বসলেন, আর আমার ছেলে নিথর—তার ঠোঁট কালো, পায়ে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ করলাম। তখনই বোঝা গেল হয়তো সময় নেই।”

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মামা আলমগীর কুমকুম নতুন করে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন—যার সঙ্গে সামিরা খানকে কেন্দ্র করে মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। নীলা জানিয়েছেন, মামলাটি পরিবারের পক্ষে করা হয়েছে এবং তার পক্ষে ভাই পারমিশন দিয়ে অ্যাটর্নি হিসেবে সই করেছেন। তিনি বলছেন, পুরনো মামলায় যে রূপান্তর ঘটেছে তা নতুন মামলা প্রক্রিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করবে—সেদিকটি এখন আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

পোস্টমর্টেম ও পরে যে কার্যক্রম চলে সে প্রসঙ্গে নীলা অভিযোগ এনেছেন যে, “পোস্টমর্টেমের নামে কিছু কাজ করা হয়েছে যা আমরা কখনো মেনে নেই। তাদের দাবি ছিল পোস্টমর্টেম হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে করেছে কি—আমরা সন্দিহান।” তিনি দাবি করেন, ঐ সময় পরিবারকে যথাযথভাবে জিজ্ঞেস করা হয়নি; তাদের সম্মতি ছাড়াই কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নীলা জানান, পরিবারের সাক্ষ্য, থানা রিপোর্ট ও ভ্রমণের বর্ণনা—এসব বিষয়ও তারা আদালত-জানা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে ও জানিয়ে আসছে।

নীলা বলেন, “আমাকে ২৯ বছর ধরে চরিত্রহীন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে—কিন্তু আমি জানি, আমার ছেলে আমাকে ভালোবাসত; একজন মায়ের প্রতি ভালোবাসার কারণে সন্তান নিজেকে শেষ করতে পারে না। আমার বিশ্বাস, আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এ লড়াই ছাড়ব না।”

গত কয়েক দশকের সময়ে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সময়কালের সঙ্গে পুলিশের তদন্ত, সিআইডি রায় ও আদালতের বিবেচনা—সবকিছুই বহুসংবাদ-আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। নীলার এই নতুন অভিযোজন ও আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশনা এখন নতুনভাবে মামলাটিকে চালিত করবে—এবং পরবর্তী পর্যায়ে আইনগত প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের পথে কী ফলাফল আসে তা অপেক্ষার বিষয়।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/