• শনিবার , ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ | ২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীমণির কত বিয়ে, কারা ছিলেন স্বামী? জানুন বিস্তারিত

পরীমণির কত বিয়ে, কারা ছিলেন স্বামী? জানুন বিস্তারিত

মোরনিউজ ডেস্ক
মোরনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩০ ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকাই চলচ্চিত্রে এমন কিছু তারকা আছেন, যাঁদের ব্যক্তিগত জীবন কখনো কখনো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি তাঁদের অন্যতম। ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারানো, নানার আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা, অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসা, জনপ্রিয়তা পাওয়া, একাধিক সম্পর্ক ও বিয়ে, আদালতের মামলা এবং মাতৃত্ব—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে।

কখনো সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন, আবার কখনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কিংবা আইনি জটিলতার কারণে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব এবং আদালতে প্রমাণিত তথ্য এক বিষয় নয়।

এই জীবনীতে পরীমণির পরিচিত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো তুলে ধরা হয়েছে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার, চলচ্চিত্রসংক্রান্ত তথ্য ও সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।

পরীমণির আসল নাম, জন্ম ও পরিচয়

একনজরে পরিচিতি

পূর্ণ নাম: শামসুন্নাহার স্মৃতি পরিচিত নাম: পরীমণি জন্মতারিখ: প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী ২৪ অক্টোবর ১৯৯২ পেশা: চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও মডেল অভিনয়জীবনের শুরু: ২০১৩ সালের দিকে প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র: ভালোবাসা সীমাহীন (২০১৫)

পরীমণির জন্মস্থান নিয়ে প্রকাশিত তথ্য একরকম নয়। কোনো সূত্রে যশোর, কোনো সূত্রে সাতক্ষীরা, আবার কোনো প্রতিবেদনে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার সিংহখালী গ্রামের কথা পাওয়া যায়। তাঁর পৈতৃক বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বাকা গ্রামে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট জন্মস্থান নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা কঠিন।

‘পরীমণি’ নামটি তাঁর চলচ্চিত্র পরিচয়ের সঙ্গে এতটাই মিশে গেছে যে অনেক দর্শক তাঁর পারিবারিক নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি জানেন না।

ছোটবেলা: মা-বাবাকে হারিয়ে নানার আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা

পরীমণির শৈশবের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর মা-বাবাকে হারানোর ঘটনা। তাঁর মা সালমা সুলতানা যখন মারা যান, তখন পরীমণি ছিলেন খুবই ছোট। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মায়ের মৃত্যুর পেছনে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।

মায়ের মৃত্যুর পর পিরোজপুরে নানার বাড়িতে তাঁর বেড়ে ওঠা শুরু হয়। পরে বাবা মনিরুল ইসলামকেও হারান। বাবার মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সহিংসতার অভিযোগ থাকলেও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ সব সূত্রে একরকম নয়।

নানাবাড়ির পরিবেশই হয়ে ওঠে তাঁর শৈশবের প্রধান আশ্রয়। পরিবারের অভাব অনুভব করলেও নানা-নানি এবং স্বজনদের স্নেহের মধ্যে বড় হন তিনি। ২০২৬ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পরীমণির শৈশবের ঈদের স্মৃতিতেও সেই পারিবারিক শূন্যতার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

তাঁর জীবনের এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরবর্তী সময়ে নানার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক এবং নিজের সন্তানদের নিয়ে প্রকাশ্য আবেগের মধ্যেও পরিবারের প্রতি তাঁর বিশেষ টান দেখা গেছে।

পরীমণির নানা কি মাওলানা ছিলেন?

পরীমণির জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকদের একজন ছিলেন তাঁর নানা শামসুল হক গাজী। তিনি পিরোজপুরের ভগীরথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

তাঁকে ঘিরে ধর্মীয় পরিচয়ের নানা আলোচনা পাওয়া গেলেও নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রে তাঁর পেশাগত পরিচয় প্রধান শিক্ষক হিসেবেই নিশ্চিত হয়েছে। তিনি মাওলানা ছিলেন কিংবা কোনো মাদ্রাসার আলেম ছিলেন—এমন দাবি নিশ্চিত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরীমণি চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও নানা তাঁর পাশে ছিলেন। ব্যক্তিগত সংকট, অসুস্থতা ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নানা-নাতনির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর গভীর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে শামসুল হক গাজী মারা যান। পরদিন পিরোজপুরে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। নানার মৃত্যু পরীমণির জীবনে গভীর শোক নিয়ে আসে।

পরীমণি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, তাঁর নানাই ছিলেন তাঁর ভরসা ও অভিভাবকসুলভ আশ্রয়। নানার মৃত্যুতে তিনি যে শূন্যতার কথা প্রকাশ করেছিলেন, তা থেকে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা বোঝা যায়।

পড়াশোনা কতদূর? কোন স্কুল-কলেজে পড়েছেন পরীমণি?

পরীমণির পড়াশোনার বড় অংশ কেটেছে পিরোজপুর অঞ্চলে। স্থানীয় সংবাদ ও জীবনীভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি মঠবাড়িয়ার ভগীরথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

মাধ্যমিকের পর কলেজ পর্যায়েও তাঁর পড়াশোনার কথা বিভিন্ন সূত্রে এসেছে। তবে কোন কলেজে কত দিন পড়েছেন এবং স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

একপর্যায়ে ঢাকায় এসে নাচ ও অভিনয়ের প্রশিক্ষণের দিকে মনোযোগ দেন তিনি। বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচ শেখার তথ্য পাওয়া যায়।

২০১১ সালের দিকে ঢাকায় আসার পর বিনোদনজগতে প্রবেশের চেষ্টা শুরু করেন পরীমণি। তাঁর ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে মূলত মডেলিং, অভিনয়ের প্রস্তুতি এবং চলচ্চিত্রে সুযোগ পাওয়ার মধ্য দিয়ে।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষাজীবন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথি ছাড়া তাঁকে নির্দিষ্ট কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ঠিক হবে না।

গ্রামের সাধারণ মেয়ে থেকে ঢালিউডের পরিচিত নায়িকা

Swapnajaal Giasuddin Selim's Finest Work! | The Daily Star

পরীমণির চলচ্চিত্রে আসার গল্প শুরু হয় মডেলিং ও ছোট পর্দায় কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে। তাঁর প্রাথমিক চলচ্চিত্র প্রকল্পগুলোর একটি ছিল ‘রানা প্লাজা’। বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমাটি সেন্সরসংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তি পায়নি।

এরপর ২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ মুক্তির মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর পরিচিতি শুরু হয়। একই সময়ে ‘মহুয়া সুন্দরী’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনায় আসেন।

শুরুর দিকে তাঁর প্রতি দর্শকদের আগ্রহের বড় কারণ ছিল পর্দায় উপস্থিতি, গ্ল্যামার এবং নতুন মুখ হিসেবে প্রচারমাধ্যমের মনোযোগ। সময়ের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন ঘরানার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।

‘রক্ত’, ‘অন্তর জ্বালা’, ‘স্বপ্নজাল’, ‘বিশ্বসুন্দরী’, ‘গুণিন’ এবং ‘মা’ তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে।

বিশেষ করে ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় অনেক দর্শকের কাছে আগের গ্ল্যামারনির্ভর পরিচয়ের বাইরেও অভিনয়শিল্পী হিসেবে নতুন মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করে।

পরীমণির ক্যারিয়ার একটানা সাফল্যের গল্প নয়। কিছু সিনেমা দর্শকের আলোচনায় এসেছে, আবার কিছু ছবি প্রত্যাশিত বাণিজ্যিক সাড়া পায়নি। তবু দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্র ও বিনোদনসংবাদে তাঁর উপস্থিতি বজায় রয়েছে।

পরীমণির উল্লেখযোগ্য সিনেমা ও অভিনয়জীবনের পরিবর্তন

পরীমণির অভিনয়জীবনকে কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। শুরুর দিকে তাঁর সিনেমায় রোমান্টিক ও গ্ল্যামারধর্মী চরিত্র বেশি দেখা গেছে। পরে গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাজের মাধ্যমে ভিন্নধর্মী চরিত্রেও নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।

'Swapnajaal' opens with high hope | Prothom Alo

স্বপ্নজাল (২০১৮)

গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে শুভ্রা চরিত্রে অভিনয় করেন পরীমণি। সম্পর্ক, সামাজিক সংকট ও আবেগনির্ভর গল্পে তাঁর অভিনয় প্রশংসা পায়।

Bishwoshundori (2020) - IMDb

 

বিশ্বসুন্দরী (২০২০)

সিয়াম আহমেদের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। রোমান্টিক গল্পের পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্কের আবহ এই ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Gunin (2022) - Plex

 

গুণিন (২০২২)

এই সিনেমায় কাজ করতে গিয়েই অভিনেতা শরীফুল রাজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়, যা পরে বিয়েতে গড়ায়।

Rongila Kitab (TV Series 2024– ) - IMDb

রঙিলা কিতাব (২০২৪)

ওটিটি মাধ্যমে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি। এখানে সুপ্তি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন ধরনের দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পান।

এ ছাড়া ‘মা’, ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’, ‘পাফ ড্যাডি’ ও ‘ফেলুবক্সী’র মতো কাজও তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের অংশ।

সামগ্রিকভাবে পরীমণির ক্যারিয়ারে দুটি ধারা লক্ষ করা যায়। একদিকে জনপ্রিয় বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে উপস্থিতি, অন্যদিকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা। তাঁর কোন ছবি সবচেয়ে সফল, সেটি নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য বক্স অফিসের হিসাব প্রয়োজন; শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা দিয়ে বাণিজ্যিক সাফল্য নির্ধারণ করা যায় না।

পরীমণি কতবার বিয়ে করেছেন? কার কার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল?

পরীমণির জীবনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি তাঁর প্রেম ও বিবাহ। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে একাধিক নাম এসেছে। তবে সংবাদে আলোচিত প্রত্যেকটি সম্পর্ককে আইনগতভাবে নিশ্চিত বিয়ে হিসেবে দেখানো ঠিক নয়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর সম্পর্ক ও বিবাহের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়গুলো নিচে দেওয়া হলো।

১. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে প্রথম জীবনের বিয়ে

পরীমণির প্রথম জীবনে তাঁর খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বিয়ের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বহু বছর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও পরে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইসমাইল তাঁর স্বামী ছিলেন বলে স্বীকার করেন পরীমণি।

এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২০১০ সালের বিয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। সম্পর্কটি পরে ভেঙে যায়।

তবে বিয়ের নির্ভুল তারিখ, দেনমোহর এবং বিচ্ছেদের আইনি নথির সম্পূর্ণ বিবরণ নির্ভরযোগ্যভাবে পাওয়া যায় না।

২. ফেরদৌস কবির সৌরভের সঙ্গে সম্পর্ক

পরীমণির অতীত সম্পর্কের আলোচনায় ফেরদৌস কবির সৌরভের নামও উঠে এসেছে। বিভিন্ন জীবনী ও পুরোনো বিনোদন প্রতিবেদনে তাঁকে ফুটবলার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু বিয়ের তারিখ, নিবন্ধন এবং বিচ্ছেদের বিস্তারিত তথ্য সব সংবাদমাধ্যমে সমানভাবে নিশ্চিত নয়। তাই এ অধ্যায়টি প্রকাশিত প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

৩. আরজে তামিম হাসানের সঙ্গে বাগদান

২০১৯ সালে রেডিও ব্যক্তিত্ব তামিম হাসানের সঙ্গে পরীমণির সম্পর্ক ও বাগদানের খবর আলোচনায় আসে।

তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন সংবাদে প্রচুর আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সম্পর্কটি টেকেনি।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তামিমের সঙ্গে বাগদানকে নিশ্চিত বিবাহের তালিকায় রাখা যায় না। বাগদান এবং আইনি বিয়ে দুটি পৃথক ঘটনা।

৪. নির্মাতা কামরুজ্জামান রনির সঙ্গে বিয়ে

২০২০ সালের মার্চে নির্মাতা কামরুজ্জামান রনিকে বিয়ে করেন পরীমণি। রাজধানীর রাজারবাগ কাজি অফিসে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।

বিয়ের দেনমোহর মাত্র তিন টাকা নির্ধারণের কথা জানিয়েছিলেন পরীমণি। এই অস্বাভাবিক অঙ্কটি নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

তবে সম্পর্কটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রায় পাঁচ মাস পর তাঁদের বিচ্ছেদের খবর সামনে আসে।

৫. শরীফুল রাজের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে ও বিচ্ছেদ

'Razz is my king' | The Daily Star

পরীমণির সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিবাহ ছিল অভিনেতা শরীফুল রাজের সঙ্গে।

‘গুণিন’ সিনেমার কাজ করতে গিয়ে দুজনের পরিচয় হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁদের বিয়ের নিবন্ধনের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০২১ বলে তালাকের নথি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন করেন তাঁরা।

বিয়ের কিছুদিন পর পরীমণি মা হতে চলেছেন বলে জানান। ২০২২ সালের ১০ আগস্ট জন্ম নেয় তাঁদের পুত্রসন্তান শাহীম মুহাম্মদ রাজ্য, যাকে পরে পুণ্য নামে ডাকতে দেখা যায়।

সন্তান জন্মের পরও তাঁদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন দেখা দেয়। কখনো বিচ্ছেদের ইঙ্গিত, আবার কখনো একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত—এসব নিয়ে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৩ সালে রাজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকজন অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশের ঘটনা নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে। এরপর রাজ ও পরীমণির মধ্যে প্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

একপর্যায়ে পরীমণি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তালাকের নোটিশ পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়। নোটিশে মানসিক অশান্তি, সম্পর্কের অমিল এবং খোঁজখবর না নেওয়ার মতো কারণ উল্লেখ করা হয়।

এই বিচ্ছেদ বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের বহুল আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

তাহলে পরীমণির মোট বিয়ে কয়টি?

প্রকাশিত জীবনী ও সংবাদ প্রতিবেদনে ইসমাইল হোসেন, ফেরদৌস কবির সৌরভ, কামরুজ্জামান রনি ও শরীফুল রাজের সঙ্গে বিয়ের তথ্য পাওয়া যায়। তবে প্রতিটি সম্পর্কের আইনি নথি সমানভাবে যাচাইযোগ্য নয়।

অন্যদিকে তামিম হাসানের সঙ্গে বাগদানের কথা জানা গেলেও সেটিকে নিশ্চিত বিয়ে বলা যাবে না।

সুতরাং ‘পরীমণি ঠিক কতবার বিয়ে করেছেন’—এ প্রশ্নের উত্তরে সংবাদসূত্রে আলোচিত সম্পর্কের সংখ্যা ও পূর্ণাঙ্গভাবে নথিভুক্ত বিয়ের সংখ্যা এক করে ফেলা উচিত নয়।

২০২১ সালের মাদক মামলা: গ্রেপ্তার, কারাবাস ও আদালতের সর্বশেষ অবস্থা

Indictment hearing in drugs case against Pori Moni deferred | Prothom Alo

পরীমণির জীবনে সবচেয়ে আলোচিত আইনি ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০২১ সালের আগস্টে।

ওই বছরের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।

মামলাটি দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। গ্রেপ্তার, রিমান্ড, আদালতে হাজিরা এবং জামিনের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়।

একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আলোচনাও প্রকাশিত হয়।

৩১ আগস্ট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান পরীমণি। গ্রেপ্তারের পর প্রায় ২৭ দিন তাঁকে কারাবন্দি থাকতে হয়েছিল।

তবে জামিনে মুক্ত হওয়া মানেই মামলা শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের আদালতসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদক মামলার অভিযোগ গঠনসংক্রান্ত শুনানি পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ সর্বশেষ যাচাইযোগ্য তথ্য অনুযায়ী মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া তখনো চলমান ছিল।

মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এই তথ্য থেকে টানা যায় না। তাঁর আইনগত অবস্থান মূল্যায়নে পরবর্তী আদালতের আদেশই গুরুত্বপূর্ণ।

বোট ক্লাবের ঘটনা: পরীমণি যে মামলার বাদী

২০২১ সালের জুন মাসে পরীমণি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, ঢাকার অদূরে একটি ক্লাবে তাঁকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা, মারধর এবং হত্যাচেষ্টার শিকার হতে হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি বিস্তারিত জানান তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

পরীমণি এই মামলায় অভিযোগকারী বা বাদী। ফলে মাদক মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর অবস্থান এবং বোট ক্লাবের মামলায় অভিযোগকারী হিসেবে তাঁর অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা।

আদালত পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

২০২৬ সালের ৯ আগস্টের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মামলায় পরীমণিকে জেরা করার জন্য আদালত ৩০ নভেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।

এই ঘটনার চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। তাঁর অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা কিংবা অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ ও পাল্টা মামলা

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পরীমণির বিরুদ্ধে নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি হয়।

পিংকি আক্তার নামের এক গৃহকর্মী তাঁর বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি পরীমণির বাসায় শিশু দেখাশোনা ও গৃহস্থালি কাজ করতেন।

মামলায় গৃহকর্মী দাবি করেন, কর্মস্থলে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তবে এগুলো অভিযোগকারীর বক্তব্য; আদালতে প্রমাণিত অপরাধের বিবরণ নয়।

পরদিন পরীমণিও সংশ্লিষ্ট গৃহকর্মী ও একজন সাংবাদিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানির অভিযোগে মামলা করেন। অর্থাৎ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের আইনি পদক্ষেপের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এসব মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য ছাড়া কোনো পক্ষকে দোষী বলা যাবে না।

পরীমণির নামে ‘অশ্লীল ভিডিও’ বা ভাইরাল ভিডিওর বিতর্কের সত্যতা কী?

পরীমণিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময়ে সময়ে নানা ধরনের ভিডিও ও ছবির দাবি ছড়িয়েছে। বিশেষ করে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং শরীফুল রাজের সঙ্গে দাম্পত্য সংকটের সময় ভিডিও প্রকাশের ঘটনা বড় আলোচনার জন্ম দেয়।

২০২৩ সালে রাজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকজন অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনাকে ঘিরে রাজ-পরীমণির সম্পর্কেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

তবে কোনো অভিনেত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রচারিত প্রত্যেকটি ভিডিও তাঁর নিজের—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

পরীমণির নামে প্রচারিত কথিত যৌন বা ‘অশ্লীল ভিডিও’ তাঁর বলে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এ ধরনের দাবিকে তাঁর জীবনীতে সত্য ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ভিডিও নতুন ঘটনার দাবি দিয়ে প্রচারের নজিরও রয়েছে। যেমন, ২০২১ সালে তাঁকে চলচ্চিত্রে নিষিদ্ধ করার কথিত খবরসহ একটি ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর বলে শনাক্ত করেছিল রিউমর স্ক্যানার।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চলচ্চিত্রের সাহসী দৃশ্য, ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও, অনুমতি ছাড়া প্রকাশিত ব্যক্তিগত ভিডিও এবং ভুয়া ভিডিও—এসব এক ধরনের বিষয় নয়।

কোনো ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত না করে তা ব্যক্তির চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

পরীমণির বর্তমান পরিবার: ছেলে পুণ্য ও মেয়ে প্রিয়ম

মা দিবসে মায়ের রূপে পরীমনি | অনন্যা

ব্যক্তিগত সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের পর পরীমণির জীবনে সন্তানদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

২০২২ সালের ১০ আগস্ট জন্ম নেওয়া ছেলে শাহীম মুহাম্মদ রাজ্যকে পরে পুণ্য নামে পরিচয় করিয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালে নতুন করে আলোচনায় আসে তাঁর মাতৃত্বের আরেকটি অধ্যায়। ওই বছরের মে মাসে পরীমণি জানান, তিনি একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নিয়েছেন। শিশুটির নাম সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম।

মেয়েকে প্রথমদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব একটা প্রকাশ করতেন না তিনি। পরে ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে একটি ভিডিওতে মেয়ের মুখও দেখান।

সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে পরীমণি জানিয়েছেন, প্রিয়মকে কোলে নেওয়ার অনুভূতিও তাঁর কাছে নিজের সন্তান জন্মের আনন্দের মতোই।

২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছেলে পুণ্য ও মেয়ে প্রিয়মকে ঘিরেই তাঁর পারিবারিক জীবন এবং মাতৃত্বের বড় অংশ আবর্তিত হচ্ছে।

শরীফুল রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি সন্তানদের দেখাশোনা এবং নিজের অভিনয়জীবনকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে তাঁর বর্তমান বাসার ঠিকানা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সন্তানদের বিদ্যালয় বা দৈনন্দিন চলাফেরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয় হওয়ায় এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বাংলাদেশের বাইরে পরীমণি কতটা জনপ্রিয়?

পরীমণির জনপ্রিয়তা শুধু বাংলাদেশের সিনেমাহলে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর চলচ্চিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি এবং বিনোদনসংবাদ পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের কাছেও পরিচিত।

বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা বিনোদনমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং কাজ নিয়মিত আলোচিত হয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক পরিচিতির একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ২০২০ সালে ঘটে। সে বছর মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের এশিয়াভিত্তিক ‘১০০ ডিজিটাল স্টারস’ তালিকায় জায়গা পান পরীমণি।

ওই তালিকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রভাব রাখা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের তারকাদের তুলে ধরা হয়েছিল। সেই সময় তাঁর ফেসবুকে প্রায় এক কোটি অনুসারী থাকার কথা সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।

তবে এই স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে সমগ্র এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী বলা যায় না। এটি মূলত ডিজিটাল উপস্থিতি ও প্রভাবের স্বীকৃতি।

একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁর সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায় না। তাই দেশের বাইরের জনপ্রিয়তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে পরিচিতির নিরিখে মূল্যায়ন করা বেশি যৌক্তিক।

বর্তমান অভিনয়জীবন: সিনেমা থেকে ওটিটিতে

পরীমণির ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক অধ্যায়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

‘রঙিলা কিতাব’-এ সুপ্তি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আবার গল্পকেন্দ্রিক অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এরপর কলকাতার ‘ফেলুবক্সী’ চলচ্চিত্রেও কাজ করেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নির্মিতব্য ‘শাস্তি’ সিনেমায় তাঁর যুক্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এতে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরও অভিনয়জগতে তাঁর সক্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে।

একজন অভিনয়শিল্পীর ক্যারিয়ারকে শুধু তাঁর ব্যক্তিগত বিতর্ক দিয়ে বিচার করলে অভিনয়, চরিত্র নির্বাচন, শিল্পীদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং নতুন মাধ্যমে কাজ করার বিষয়গুলো আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে চলচ্চিত্রজীবনের সফলতা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের খবর একেবারে উপেক্ষা করাও সম্ভব নয়, কারণ পরীমণি নিজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রকাশ্যেই তুলে ধরেছেন।

পরীমণির জনপ্রিয়তার পেছনে কী রয়েছে?

পরীমণির জনপ্রিয়তার পেছনে কয়েকটি পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয় রয়েছে।

প্রথমত, তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। বিশেষ করে একাধিক আলোচিত সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের জীবন, অনুভূতি এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। ফলে সিনেমার বাইরেও তাঁর জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়।

তৃতীয়ত, আইনি বিতর্ক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঘটনাগুলো তাঁকে নিয়মিত সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় রেখেছে। যদিও আলোচিত হওয়া এবং শিল্পী হিসেবে জনপ্রিয় হওয়া এক নয়।

চতুর্থত, জীবনের নানা সংকটের মধ্যেও কাজ ও সন্তানদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর প্রকাশ্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

তবে দর্শক তাঁকে কেন পছন্দ করেন বা অপছন্দ করেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য জরিপ ছাড়া সবার মনোভাব একভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

পরীমণির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপঞ্জি

বছরউল্লেখযোগ্য ঘটনা
১৯৯২প্রচলিত জীবনী অনুযায়ী জন্ম
শৈশবমাকে হারিয়ে নানাবাড়িতে বেড়ে ওঠা
২০১১অভিনয় ও নাচ শেখার জন্য ঢাকায় আসা
২০১৩চলচ্চিত্রে কাজ শুরু
২০১৫‘ভালোবাসা সীমাহীন’ মুক্তি
২০১৮‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়
২০২০ফোর্বস এশিয়ার ডিজিটাল তারকাদের তালিকায় জায়গা
২০২১বোট ক্লাবের ঘটনা, মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ও জামিন
২০২১–২২শরীফুল রাজের সঙ্গে বিয়ে ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা
২০২২পুত্রসন্তান রাজ্যের জন্ম
২০২৩রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদ; নানার মৃত্যু
২০২৪দত্তক কন্যা প্রিয়মকে পরিচয় করানো ও ‘রঙিলা কিতাব’
২০২৫গৃহকর্মীর অভিযোগে মামলা ও পাল্টা আইনি পদক্ষেপ
২০২৬অভিনয় অব্যাহত; মাদক ও বোট ক্লাব-সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান

২০২৬ সালে পরীমণির ব্যক্তিগত ও আইনি অবস্থা

২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র অনুযায়ী, পরীমণি শরীফুল রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নিজের সন্তানদের নিয়ে জীবনযাপন করছেন। নতুন করে বিয়ে করেছেন—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাঁর বিরুদ্ধে করা মাদক মামলার অভিযোগ গঠনসংক্রান্ত শুনানির পরবর্তী তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২৬। অন্যদিকে বোট ক্লাবের ঘটনায় তাঁর দায়ের করা মামলায় জেরার নতুন তারিখ ৩০ নভেম্বর নির্ধারিত রয়েছে।

এ দুটি মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্ত তাঁর আইনি অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য দেবে।

পরীমণিকে নিয়ে অতীতে বহু আলোচনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু জীবনী লেখার ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার, অভিযোগ, মামলা, বিচার এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

শেষ কথা: পরীমণির জীবন কি সিনেমার গল্পের চেয়েও ঘটনাবহুল?

পরীমণির জীবন একদিকে শৈশবের বঞ্চনা, অন্যদিকে পরিচিতি ও প্রতিষ্ঠার গল্প। যিনি অল্প বয়সে মা-বাবাকে হারিয়েছেন, তিনি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।

জীবনের একপর্যায়ে নানা হয়ে উঠেছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়। এরপর চলচ্চিত্র, প্রেম, বিয়ে, সন্তান, বিচ্ছেদ এবং আদালতের নানা ঘটনা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে বারবার আলোচনায় এনেছে।

পরীমণির অভিনয়ের মূল্যায়ন যেমন তাঁর চলচ্চিত্রের কাজ দিয়ে করা প্রয়োজন, তেমনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত প্রমাণ ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

সবকিছু মিলিয়ে পরীমণি বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের একটি আলোচিত নাম—যাঁর জীবনকে শুধু বিতর্ক দিয়ে কিংবা শুধু সাফল্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

বিজ্ঞাপন